চাটমোহরে সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো
১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
চাটমোহরে সাত গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো
g চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

পাবনা চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে বড়াল নদীর বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে শত শত মানুষ। এ অঞ্চলের ৭ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। এসব এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি একটি ব্রিজ নির্মাণের। ভোটের সময় জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর আর খোঁজ-খবর রাখেন না। ফলে দিনের পর দিন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াল নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করছে। বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রী যারা এলাকার দুর্গাদাস স্কুল এন্ড কলেজ, হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জোনাইল সেন্ট রিটার্স হাইস্কুল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেনে পড়াশোনা করে তারা এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হয় এদেরকে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। অনেকে পার হওয়ার সময় পানিতে পড়ে আহত হন।

জানা গেছে, গোপালপুর, ধুলাউড়ি পশ্চিমপাড়া, সোন্দভা, বর্ণি, পার-বর্ণি, চামটা, জোনাইলসহ আশপাশে অন্তত ৭/৮টি গ্রামের মানুষ এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে। চাটমোহরের হরিপুর বাজার থেকে বড়াইগ্রাম জোনাইল বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার মাঝ দিয়ে বড়াল নদী অতিবাহিত হয়েছে। নদীর ওপারের ৭/৮টি গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হয় গোপালপুর বাঁশের সাঁকো দিয়ে। সাঁকো না থাকলে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার ঘুরে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ সকলকে চলাচল করতে হয়।

অপরদিকে এলাকার কৃষিক্ষেত খামারের ফসলসহ যাবতীয় মালামাল পারাপার করে ওই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে যেতে হয়। যা একজন কৃষকের জন্য অনেক কষ্টের ব্যাপার। গোপালপুর গ্রামের বাবলু হোসেন জানান, এই সাঁকোর ওপর দিয়ে একা একাই পার হওয়া যায় না তার উপর দিয়ে কৃষি ক্ষেতের ফসলি বোঝা পারাপার করা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বে থেকে এলাকার বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ ঝাড় থেকে বাঁশ ও টাকা তুলে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। শুকনো মৌসুমে নদীতে পানি না থাকলে বাঁশের সাঁকো প্রয়োজন পড়ে না। বর্ষা মৌসুম আসলে এলাকার মানুষদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। তখন সাঁকো ছাড়া পারাপার হওয়া যায় না। তা না হলে জোনাইল হয়ে প্রায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গ্রামে আসতে হয়। আমাদের এই দুর্ভোগ কেউ দেখে না। নির্বাচনের সময় আসলে বিভিন্ন পার্থীরা এসে প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিজ নির্মাণের। কিন্তু নির্বাচনের পর আর তাদের খোঁজ থাকে না। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি মানুষের দুর্ভোগ দূর করার স্বার্থে একটি ব্রিজ নির্মাণের। এজন্য তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপারে হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন বলেন, ব্রিজ না থাকায় মানুষ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। নদীতে ব্রিজ নির্মাণে অনেকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বলা হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন