শীতে কাতর গঙ্গাচড়ার অভাবী মানুষ
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
শীতে কাতর গঙ্গাচড়ার অভাবী মানুষ
বন্যার ধকল কেটে উঠতে না উঠতেই রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গরীবের ঘরে শীতের হানা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। তীব্র শীত জেঁকে বসায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তিস্তা গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। দুপুরের পর একটু সূর্যের মুখ দেখা গেলেও নিরুত্তাপ সূর্য। আর বিকেল হতে না হতেই তাপমাত্রা কমতে থাকে। কুয়াশায় ডেকে যায় চারিদিক। আর সকাল হতেই চারদিকে কুয়াশায় ঢেকে যায় প্রকৃতি। এ অবস্থায় শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ। এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরানো কাপড়ের দোকানগুলোতে মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ছে। দামও বেশি নিচ্ছে দোকানদাররা। শীতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে। মানুষের পাশাপাশি শীতের কবলে পড়েছে গবাদিপশু।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, লোকজন কঠিন ঠাণ্ডার মধ্যে আছে। মানুষের অবস্থা করুণ। সরকারিভাবে মাত্র ৩৬০টা কম্বল দিয়েছে।

বদরগঞ্জে ঠাণ্ডায় কাঁপছে মানুষ

বদরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, বদরগঞ্জে গত চারদিন ধরে ঠাণ্ডায় মানুষ কাহিল হয়ে পড়েছে। দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। গরম কাপড় কিনতে অসহায় মানুষেরা ছুটছেন ফুটপাতের দোকানে। এখন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারিভাবে অসহায় দুস্থদের মাঝে তেমন গরম কাপড় বিতরণ করা হয়নি।

জানা গেছে, এ উপজেলায় অসহায়-দুস্থ পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সরকারিভাবে প্রায় হাজার পিচ কম্বল দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল পৌর শহরের শহীদ মিনার চত্বরে ফুটপাতে গরম কাপড় কিনতে নিম্ন আয়ের মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। ওইদিন গরম কাপড় কিনতে আসেন আমরুলবাড়ি গ্রামের মেনহাজুল হক। তিনি বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ বড় দোকান থেকে নতুন সুইটার কেনার টাকা আমাদের নেই। তাই এখানে পুনারা সুইটার কিনতে আসছি। কিন্তু গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি সুইটারের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা বেশি।’

ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুই মাস আগে অনেক টাকার গরম কাপড় কিনে রেখেছি। কিন্তু এতোদিন ঠাণ্ডা না হওয়ায় গরম কাপড় বিক্রি হয়নি। গত চারদিনের ঠাণ্ডায় অনেক কাপড় বিক্রি করলাম।’

বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রাশেদুল হক বলেন, ‘কয়েকদিনের ঠাণ্ডায় মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সরকারিভাবে ৪ হাজার ৮৫০ পিস কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। এগুলো অসহায়-দুস্থ মানুষকে দেওয়া হয়েছে। আরো কম্বল বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। পেলে দ্রুত তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন