জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে নানা সমস্যা
জয়পুরহাট প্রতিনিধি২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে নানা সমস্যা

বৃষ্টিতে রান্না বন্ধ, কম্পিউটার আছে প্রশিক্ষক নেই

একটু বৃষ্টিতেই রান্না বন্ধ, কম্পিউটার আছে প্রশিক্ষক নেই, দর্জি প্রশিক্ষক মারা গেলেও নিয়োগ না দেওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবার।  শিশু পরিবারের বর্তমান বরাদ্দ বাজার মূল্যের তুলনায় কম এবং রান্না ঘর, বাথরুমসহ শিশুদের থাকার রুমগুলোর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।

শহর সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এতিম শিশুদের ভবিষ্যত্ চিন্তা করে ১৯৭২ সালে  সরকারিভাবে স্থাপন করেন এতিমখানা যা এখন সরকারি শিশু পরিবার নামে পরিচিত। জয়পুরহাট জেলা শহরের আরামনগর এলাকায় দুই একর জমির ওপর স্থাপিত শিশু পরিবারে বর্তমানে একশজনের স্থলে ৬২ এতিম শিশু রয়েছে। জানালা ভাঙাসহ রান্না ঘরের চাল ফুটা হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে এতে সকল প্রকার রান্নার কার্যক্রম বন্ধ থাকে। বাথরুমসহ থাকার রুমগুলো সংস্কারের অভাবে মর্চে ধরেছে। একটু বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। বাথরুমগুলোর পানি ঠিকমত নিষ্কাশন হয় না। 

নানা সমস্যা নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুরা  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ১০ বছর ধরে এ শিশু পরিবারে থাকা ইউসুফ আলী জয়পুরহাট কাশিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণিতে পড়ে যার রোল ১। একই ক্লাসের অপর শিক্ষার্থী মোস্তাকিম যার রোল ৫। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এখানে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোরআন শিক্ষা শেষ করায় গত ১৬ ডিসেম্বর প্রথম ব্যাচের ২৫ এতিম শিশুর হাতে হাতে কোরআন শরীফ তুলে দেওয়া  হয়েছে। এখানকার প্রতিটি শিশুকে মেধাবী করে গড়ে তোলার জন্য কর্তৃপক্ষ একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে রয়েছে ১-৫ পর্যন্ত রোলের জন্য বিশেষ পুরস্কার আর ৬-১০ পর্যন্ত রোলধারীদের আলাদা পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের জন্য জয়পুরহাট শিশু পরিবার বরাদ্দ পেয়েছে ২২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে সাড়ে ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি মাসে একজন শিশুর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ২ হাজার ৬শ টাকা। এরমধ্যে রয়েছে খাদ্য, জ্বালানি ও দুধ বাবদ ২ হাজার টাকা, শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বাবদ ২২৫ টাকা, প্রশিক্ষণ ৫০ টাকা, পোশাক বাবদ ১৬৫ টাকা, চিকিত্সা বাবদ ৬০ টাকা ও তেল, সাবান, প্রসাধনী, ব্লিচিং পাউডার বাবদ ৭০ টাকা। এখানে শিশুদের কারিগরি শিক্ষার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে কম্পিউটার ও দর্জি বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষক নেই। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিনগুলো নষ্ট হচ্ছে।

শর্টহ্যান্ড বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থী না থাকলেও ২০০৯ সাল থেকে হেলাল উদ্দিন নামে এক প্রশিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। কম্পিউটারের যুগে শর্টহ্যান্ডের তেমন প্রয়োজন না থাকায় ছেলেরা শিখতে আগ্রহী নয় বলে জানান হেলাল উদ্দিন। ইতোপূর্বে কম্পিউটার, দর্জি ও ইলেক্ট্রিক হাউজ ওয়্যারিং বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করায় এই শিশু পরিবার থেকে শিক্ষা শেষে বের হয়ে যাওয়া ৭৮১ শিশুর মধ্যে কর্মস্থান হয়েছে ৬৫০ জন শিশুর। 

জ্ঞানী গুণীদের জীবন সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য জয়পুরহাট শিশু পরিবারে তিন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে পারিবারিক নামকরণ করা হয়েছে। পরিবারগুলো হচ্ছে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কাজী নজরুল ইসলাম ও শের-ই- বাংলা এ কে ফজলুল হক পরিবার।

উপ-তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম জানান, জয়পুরহাট শিশু পরিবারের বর্তমান বরাদ্দ বাজার মূল্যের তুলনায় কম এবং রান্না ঘরসহ শিশুদের থাকার রুমগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। বেঞ্চ সমস্যা ও কম্পিউটার থাকলেও কোনো প্রশিক্ষক নেই।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন