রাজশাহীতে নিশ্চিত দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন রক্ষা
দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউএনও’র স্কুল ব্যাগ ও শীতবস্ত্র উপহার
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
দুই শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউএনও’র স্কুল ব্যাগ ও শীতবস্ত্র উপহার

রেল লাইনের ত্রুটি দেখে শীত নিবারণে ব্যবহূত নিজেদের লাল মাফলার দেখিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেনকে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষার নায়ক দুই শিশুর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে শিশুদ্বয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে নিশ্চিত দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেন রক্ষা করে রাতারাতি আলোচনার শীর্ষে আসা শিশুদ্বয়কে মঙ্গলবার নিজ হাতে পূরষ্কৃৃত করেছেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন রেজা। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রেল দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই দুই শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল পূরষ্কার হিসেবে তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ, সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান, আড়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক রফিকুল ইসলাম রফিক, যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি শিক্ষক আমানুল হক আমান, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ফারুক হোসেন প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী সিরাজুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেন রক্ষা করার খবর পেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেন। তার নির্বাচনী এলাকার দুইজন শিশু এ ধরণের সাহসিকতা দেখানোয় প্রতিমন্ত্রী গর্ববোধ করেন। একই সঙ্গে দুই শিশুর বাবাকে ফোন করে তাদের সারা জীবনের শিক্ষার দায়িত্ব নেন।

মঙ্গলবার সকালে ঝিনা গ্রামের দুই শিশুর বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তারা দুইজন অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। লিটনের বাবা সহিদুল ইসলাম গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করেন। আর মা মুনিয়ারা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। এরমধ্যে বড় ছেলে টিটন (১০), মেজো ছেলে লিটন (৭), ছোট ছেলে মিঠুন (৫)। তাদের নিজস্ব কোন জমি নেই। রেলওয়ের জমিতে একটি টিনের ছাপরা ঘর তুলে বসবাস করছেন তারা।

লিটনের মা মুনিয়ারা বেগম বলেন, ছেলের এই কাজ দেখে সবাই সমাদর করছেন। এ দৃশ্য দেখে ভালো লাগছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার ছেলেকে মানুষ দেখতে আসছে।

অপরদিকে সিহাব হোসেন বাবা সুমন হোসেন অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে চার সদস্যের সংসার চালান। তারাও রেলওয়ের জমিতে একটি টিনের ছাপরা ঘর তুলে বসবাস করছেন। নিজম্ব কোন জমি নেই। সিহাবের মা রিতা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উপার্জনের টাকায় কোন মতে তাদের সংসার চলে। সিহাবের আরেকটি ভাই রয়েছে। তার নাম সাকিল (২)।

আড়ানী স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদ জানান, তেলবাহী ট্রেন চালক কেএম মহিউদ্দিন দূর থেকে দুই শিশুর মাফলার দিয়ে সিগন্যাল লক্ষ্য করেন। এরপর চালক ট্রেন থামিয়ে দেন। এ কারণে কোটি টাকার তেলবাহী ট্রেন নিশ্চিত দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ট্রেন চালক কেএম মহিউদ্দিন বলেন, খুলনা থেকে তিনি রাজশাহীতে তেল নিয়ে আসছিলেন। পথিমধ্যে আড়ানী স্টেশনের একটু দূরে ঝিনা রেলগেট এলাকায় লাইন ভাঙা দেখে ওই দুই শিশু (সিহাব-৬ বছর এবং লিটন-৭ বছর) নামের দুই ছেলে মাফলার দিয়ে সিগন্যাল দেয়। প্রথমে ভাবলাম থামবো না, তার পরেও ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করে ভাঙা স্থান থেকে ২০ মিটার দূরে ট্রেন থামিয়ে দিলাম। ট্রেন থামিয়ে নেমে এসে দেখি রেল লাইন ভাঙা। পরে আড়ানী স্টেশনের মাস্টার নয়ন আহম্মেদকে বিষয়টি জানানো হয়।

ওই তেলবাহী ট্রেনের পরিচালক আরশেদ আলী জানান, হঠাত্ ট্রেন থামিয়ে নেমে দেখি রেল লাইন ভাঙা। বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরপর মিস্ত্রি পাঠিয়ে রেললাইন মেরামতের দুই ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে সকল রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা আড়ানী রেল স্টেশনের কাছে এ ঘটনা ঘটে। স্টেশনের ৪০০ মিটার পূর্ব দিকে ঝিনা রেলগেটে রেললাইন ভাঙা দেখে দুই শিশু উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে শীত নিবারণে নিজেদের লাল মাফলার চালককে দেখিয়ে ট্রেন থামানোর সংকেত দেয়। এতে  ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পায়।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন