তানোরে এইচএসসির ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

তানোর উপজেলার কলেজগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র দ্বিগুণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিবিধ খাত দেখিয়ে এই বাড়তি অর্থ আদায় করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো রশিদ প্রদান করছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য শিক্ষা বোর্ড বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দুই হাজার ৪৮৫, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য এক হাজার ৮৮৫ টাকা ধার্য করে। অথচ উপজেলার অধিকাংশ কলেজ ফরম পূরণে শিক্ষার্থী প্রতি তিন হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবী, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এ নিয়মকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে অধিকাংশ কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে দ্বিগুণ বা তারও অনেক বেশি হারে অর্থ আদায় করছেন।

অভিভাবকরা জানান, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ফরম পূরণের সময়ে কোচিং ফি, ক্রীড়া ফি, সেশন চার্জ, স্কাউট ফি, বিদ্যুত্ বিল, প্রবেশপত্র, কেন্দ্র ফিসহ নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। আবার কোনো শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তার অভিভাবককে দ্বিগুণের অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেকেই আবার স্থানীয় দাপটে প্রভাব খাঁটিয়ে ও ক্ষমতাশীল দলের রাজনৈতিক বিবেচনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফরম পূরণে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁরা এইচএসসির ফরম পূরণে এবার এই বাড়তি অর্থ আদায় করছেন।

উপজেলার তানোর আব্দুল করিম সরকার কলেজ অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান মিঞা, তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ বিষ্ণুপদ সরকার, ফজর আলী মোল্লা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, কোয়েল আদর্শ ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, সরনজাই ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ ইমারত আলী, কৃষ্ণপুর মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ আতাউর রহমান ও তানোর মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ইসাহাক আলী মণ্ডলসহ কয়েকটি কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শওকাত আলী জানান, ফরম পূরণে বাড়তি ফি আদায়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন