নাব্য হারিয়ে বড়াল এখন ফসলের ক্ষেত
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
নাব্য হারিয়ে বড়াল এখন ফসলের ক্ষেত

আব্দুল মান্নান, বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলের প্রাণ এবং পদ্মা ও যমুনা নদীর একমাত্র যোগসূত্র বড়াল নদী এখন শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এ নদীর বুক জুড়ে ধান, সরিষা ও রসুনের আবাদ করা হয়েছে। কিছুদিন আগেও যে বড়াল থেকে তীরবর্তী মানুষের পানির চাহিদা মিটে আশেপাশের জমিতে আবাদ হতো, বর্তমানে খোদ সে নদীর বুকেই অগভীর নলকূপ বসিয়ে চলছে ধান চাষ। একসময় যে নদীতে পাল তোলা নৌকা চলতো, সে নদী এখন সবুজ-শ্যামল ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। বড়াল রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ, কর্মশালার মাধ্যমে এলাকাবাসী বড়াল সংস্কারের দাবি জানালেও এখন পর্যন্ত যথাযথ কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মার শাখা হিসাবে উত্পন্ন হয়ে দুইশ’ ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বড়াল নদী পুঠিয়া, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্যদিয়ে বাঘাবাড়ি হয়ে হুরা সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়া এলাকায় যমুনায় পড়েছে। প্রখ্যাত লেখক প্রমথনাথ বিশী লিখেছেন, মুর্শিদাবাদ থেকে নদীপথে ঢাকায় আসার সংক্ষিপ্ত পথ হওয়ায় তত্কালীন নবাব-বাদশাহরা যাতায়াতের জন্য বড়াল নদীকেই ব্যবহার করতেন। যোগাযোগ সুবিধার কারণে বড়াল নদীর দুই পাড়ে বড়াইগ্রাম থানা ভবন, চাটমোহর উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। এ নদীতীরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য জনপদ। সে সময় নদীটি ছিল পূর্ণ যৌবনা। ১৯৮১-৮২ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড চারঘাটে বড়ালের উত্স্যমুখে আট ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের তিনটি গেটবিশিষ্ট মাত্র পাঁচ হাজার কিউসেক পানি ডিসচার্জ ক্ষমতাসম্পন্ন রেগুলেটর (বাঁধ) নির্মাণ করে।

এদিকে, বড়াই গ্রামের ধামানিয়াপাড়া ও রয়না মোড়ে বক্স কালভার্ট, চাটমোহরের নুন নগরে স্লুইসগেট এবং নতুন বাজার, বোথর ও রামনগরে নদীর বুক চিরে রাস্তা করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে ভূমিদস্যুরা নদীর দুইপাড়ে মাটি ভরাট করে দখল করে নেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বড়াল নদীতে পানি না থাকায় এখন নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর এ সুযোগে শুষ্ক মওসুমে এলাকার কৃষকরা নদীর বুক জুড়ে ফসলের আবাদ করেছেন। বড়াই গ্রামের ধানাইদহ, কালিবাড়ি, ভরতপুর, বাগডোব ও জোনাইল অংশে নদীর বুকে রীতিমত ধানের পাশাপাশি রসুন ও সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এ এলাকার প্রধান নদী বড়াল শুকিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে গ্রামের মানুষ ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। দ্রুত বড়াল নদী পুনঃখনন না করলে ভবিষ্যতে এ এলাকায় ভূ-গর্ভস্থ পানিরও অভাব দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, বড়াল ও তার শাখা নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় ফসল চাষে কৃষকদের অতিরিক্ত সেচ খরচ গুনতে হচ্ছে। বড়াল রক্ষা আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বলেন, চারটি জেলার লাখ লাখ মানুষ বড়াল নদীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। কিন্তু নদী মরে যাওয়ায় তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই অবিলম্বে সব বাঁধ অপসারণসহ পুরো বড়াল নদীর পুনঃখনন জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন