সমস্যা জর্জরিত পার্বতীপুর রেলস্টেশন
যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি চরমে
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
সমস্যা জর্জরিত পার্বতীপুর রেলস্টেশন

মোহাম্মদ শামসুল হুদা, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সর্বদিক গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন পার্বতীপুর থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রেলওয়ে ৪২টি ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিনই এখানে অসংখ্য যাত্রী ট্রেন থেকে ওঠানামা করে। স্টেশনে বিভিন্ন সমস্যায় প্রতিনিয়ত যাত্রী সাধারণকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। ৪ ও ৫নং প্লাটফরমের উত্তরাংশ প্লাটফরমটি দেবে গিয়ে রেল লাইনের রুট ওপরে উঠেছে এবং প্লাটফরমটি নিচের দিকে রয়েছে। অর্থাত্ রেললাইনের নিচে প্লাটফর্মের অবস্থান দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, প্লাটফরম পরিষ্কার করার জন্য সুইপারের সংখ্যা খুব নগণ্য হওয়ার প্লাটফরমটি প্রায় অপরিষ্কার থাকে। এখানে এসব ট্রেনগুলো ওয়াসপিটে ধোয়া-মোছার জন্য ঠিকাদার চুক্তিবদ্ধ হলেও নিয়মিত ট্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয় না।

পার্বতীপুর স্টেশনে পাঁচটি প্লাটফরম রয়েছে। ২, ৩, ৪ ও ৫ নং প্লাটফরমে কোনো পায়খানা-প্রসাব খানা নেই। ১নং প্লাটফরমের প্রথম শ্রেণির যাত্রী বিশ্রামাগারটি সব সময় বন্ধ থাকে। প্রতিটি প্লাটফরমের দৈর্ঘ্য এক হাজার ফুট। প্লাটফরম উঁচু না করার যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্লাটফরমের যাত্রী ছাউনি অধিকাংশই আজ জরাজীর্ণ। পর্যাপ্ত ও প্রয়োজনীয় ছাউনিটির অভাবে বর্ষাকালে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যাত্রী ছাউনি মেরামত করলেও বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। ১৯৩০ সালে নির্মিত ২০ ফুট উঁচু ও ৪৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের যাত্রী পারাপারের জন্য রেলওয়ে ওভার ব্রিজটির শেড না থাকায় রোদ বৃষ্টিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া, যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য এখানে কোনো অনুসন্ধান কেন্দ্র নেই। স্টেশনে পূর্বপার্শ্বে রেল লাইনে পাথর ও মাটি না থাকায় এই জায়গায় নিচু হওয়ার ফলে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন উন্নয়নের ব্যাপারে পার্বতীপুর পৌরসভার মেয়র এ জেড এম মেনহাজুল হক বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ স্টেশন যেমন ছিল, এখন সেটা আরো খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। রেলের বহু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্টেশন পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ স্টেশন উন্নয়ন না করা দুঃখজনক। রেলওয়ে সংসদীয় বোর্ডের সদস্য ও সংসদ সদস্য মোঃ ইয়াছিন আলী বলেন, রেলওয়ে স্টেশনের উন্নয়নের জন্য আবেদন করলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করার জন্য এ সরকার চেষ্টা করবে।

পার্বতীপুর রেল স্টেশনের উন্নয়নের ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী দীপক কুমার সিংহ বলেন, পার্বতীপুর রেল স্টেশনে যে কোনো কাজ করতে কোনো ঠিকাদার আগ্রহী হন না। কারণ, এখানে চাঁদাবাজি এতই প্রকট যে, কেউ কাজ করতে সাহস পান না। তবে পার্বতীপুরের স্টেশনের পূর্ব দিকে সীমানা প্রাচীর উত্তর এলাকায় লেভেল ক্রসিং হতে দক্ষিণে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত ১৯০ ফুট কাজ শুরু হয়েছে তা শিগগিরই শেষ হবে। আর যাত্রী সাধারণের ট্রেনে ওঠা-নামার জন্য ১নং প্লাট ফরম উঁচু করা, রেলওয়ে ওভার ব্রিজ ছাউনি ও লোকোসেড ও ডিজেল ওয়ার্কশপে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

এদিকে স্টেশনটি রাজশাহী বা সিলেটের মতো আধুনিক করতে অর্থ বরাদ্দ করতে সংশ্লিষ্টরাসহ এলাকাবাসী ও যাত্রীসাধারণ দাবি জানিয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন