দুইজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
দুইজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

মাত্র দুইজন চিকিত্সক দিয়ে চলছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২৭ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও কাগজে-কলমে দায়িত্ব পালন করছেন চারজন। এদের কেউই হাসপাতাল চত্বরে থাকেন না। এক্সেরে মেশিন থাকলেও লোকবল না থাকায় সেটি বিকল হতে বসেছে। শূন্য রয়েছে আটজন নার্সসহ একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে মাঝে-মধ্যে রোগীকে ইনজেকশান দিতে দেখা যাচ্ছে নাইটগার্ডকে। এ ছাড়াও আয়ার দায়িত্ব পালন করছেন নার্স, আর জরুরি বিভাগে টিকিট সরবরাহ করছেন একজন কুক মশালচী।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দেখা যায় জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার নেই। বহির্বিভাগে শত-শত রোগীর চাপ সামলাচ্ছেন মাত্র দুইজন ডাক্তার। হাসপাতালের ভেতর বহির্বিভাগে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীরা টিকিট কিনে দাঁড়িয়ে আছে দীর্ঘক্ষণ। এদের মধ্যে কামাল হোসেন নামের এক রোগী জানান, একটু আগে কোনো ডাক্তার হাসপাতালে ছিল না। ১০ মিনিট পূর্বে একই সঙ্গে রাজশাহী থেকে দুইজন ডাক্তার প্রবেশ করলেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৭ জন ডাক্তারের মধ্য ২৩টি পদ শূন্য রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৯২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ৬২ জন। যে সকল পদ শূন্য রয়েছে তাদের মধ্যে, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়ন কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়ন কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া, মেডিক্যাল অফিসার, সহকারী সার্জন চারজন, জুনিয়ন কনসালটেন্ট শিশু, অর্থো., কার্ডিও., চক্ষু, ইএনটি, যৌন ও চর্ম, সহকারী সার্জন, আএমও, ইএমও, প্যাথলজিস, অ্যানেসথেসিয়া ও মেডিক্যাল অফিসার। এ ছাড়াও শূন্য রয়েছে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। এ ছাড়াও ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জন পদ শূন্য রয়েছে।

এছাড়া শূন্য রয়েছে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, সিনিয়র স্টাফসহ আটজন নার্স, প্রধান সহকারী, কার্ডিওগ্রাফার, কমপাউন্ডার, ল্যাব এটেনডেন্ট, ওটি বয়, ইমারজেন্সি এটেনডেন্ট, অফিস সহকারী কাম কম অপারেটর দুইজন, ভাণ্ডাররক্ষক, স্বাস্থ্য সহকারী আটজন, কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার দুইজন, এমএলএসএস, আয়া, সুইপারসহ পদ শূন্য রয়েছে।

উপজেলার আমোদপুর গ্রামের মালেকা বেগম অভিযোগ করে বলেন , এটা নামেমাত্র হাসপাতাল। যাদের টাকা নেই তারা আসবে এই হাসপাতালে। এখানে চিকিত্সা নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরেও ওষুধ মিলে না।

অপর একজন রোগী কলিমুদ্দিন বলেন, এই হাসপাতালে যে এক্সরে মেশিন রয়েছে সেটির চালক না থাকায় ছয় মাস ধরে বিকল। এর ফলে বাইরে অধিক টাকা দিয়ে এক্সরে করতে হয়।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (টিএইচএ) ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি সব সময় বাড়ি থেকে অফিস করি এ কথা ঠিক না। মাঝে-মধ্যে কোয়ার্টারে থাকি। তবে ডাক্তারসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নার্স সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখেও কোনো প্রতিকার হয়নি বলে তিনি জানান।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন