রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে দাপ্তরিক কাজ
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে একটি অন্যতম অঞ্চল। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা কারও জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে এখনও অসংখ্য মানুষের বসবাসের পাশাপাশি চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড। রংপুর সিটি করপোরেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে তাতে সাইনবোর্ড দিয়ে ভবন ব্যবহার না করার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না।

রংপুর সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অফিস থেকে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সরকারি ও ৩০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। ভবনগুলো আবাসিক ও অফিস ভবন। এগুলোর মধ্যে জেলা জজ আদালত, জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, জোনাল সেটেলমেন্ট রেকর্ড রুম, সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জেলা প্রশাসনের বাসভবন, পুলিশ গার্ড শেড, ট্রেজারি ভবন পুরাতন, এডিএম কোর্ট ভবন ও তার রেকর্ড রুম, রেডক্রিসেন্ট ভবন, সিভিল সার্জনের বাসভবন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার মূল ফটক, অফিস কাম জেনারেল বাসভবন, কারা হাসপাতাল, জেল টয়লেট, সদর হাসপাতাল, সদর হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের বাসভবন, নগরীর গুপ্তপাড়ায় শাহজাহান আলীর চারতলা বিশিষ্ট ভবন, একই পাড়ার অ্যাডভোকেট কমল মজুমদারের দুই তলা বিশিষ্ট বাসভবন, কামাল কাছনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্রের ভবন, সাতগাড়া পশ্চিম পর্যটন এলাকার শিরিন আহমেদের জরাজীর্ণ ভবন, পাবর্তীপুর বজলুর রশিদের দুই তলাবিশিষ্ট বাসভবন, ধাপ মেডিক্যালের পশ্চিম পাশে কেল্লাবন্দ যোগীপাড়ার ডা. খন্দকার আখতারুজ্জামানের আটতলা বিশিষ্ট ভবন, সরদারপাড়ার মো. সোহেলের ভবন, মুন্সিপাড়ার মো. আনামের একতলা ভবন, একই এলাকার হাজী ইছাহাক অপুর দুই তলাবিশিষ্ট ভবন, কেরামত আলী রোডের মো. মতিউর রহমানের সাত তলাবিশিষ্ট ভবন, মাহফুজার রহমান ইসমাইলের আট তলাবিশিষ্ট বাসভবন, রাধাবল্লভ এলাকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার বাসভবন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুরাতন ডায়াবেটিস সমিতি, ডা. সাইদুজ্জামান রুবেলের বাসভবন, পাকপাড়ায় রাজার বাসভবন, উত্তর মুলাটোল সরকারি প্রাথমিক স্কুল, মুলাটোলে আজাদুল ইসলামের বাসভবন, মন্টু মিয়ার বাসভবন, লক্ষ্মী সিনেমা হল, মাস্টারপাড়ার ছাত্রাবাস, গুপ্তপাড়ার ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, বায়তুল সাজেদা জামে মসজিদ, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কারমাইকেল কলেজ এক নম্বর একাডেমিক ভবন, দুই নম্বর প্রশাসনিক ভবন, বেগম রোকেয়া ছাত্রীনিবাস, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের তারামন বিবি ছাত্রী নিবাস, রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ভবন, ছাত্র নিবাস, চারটি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বাসভবন, রংপুর সরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন, মোসলেম উদ্দিন ছাত্রাবাস, বেতপট্টি এলাকার গোলাম মিয়ার একতলা বিশিষ্ট ভবন, জুম্মাপাড়ায় মিঠু হোটেল (আবাসিক) ও পুলিশ সুপারের বাসভবন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই লোকজনের বসবাস ও অফিসের কার্যক্রম চলছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ সংবলিত সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হলেও কেউই তা মানছে না।

সামসুল ইসলাম বলেন, রংপুরের অন্যতম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট ভবন জুম্মাপাড়ার মিঠু হোটেল আবাসিক ও ঢাকা হোটেল আবাসিক ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনগুলোর ছাদ, পিলার এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ প্রতিদিনেই শত শত মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা করতে মার্কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত করছেন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, মূলত যেসব কারণে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় এর মধ্যে মাটির ফাটল (ফল্ট) অন্যতম। বাংলাদেশে দুটি ফল্টের অস্তিত্ব আছে, এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট ফল্ট, অন্যটি হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা হয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি হয়ে মিয়ানমার। ফলে রংপুর জেলা সরাসরি প্রথম ফল্টের আওতায়। তাই এখানে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের সময় সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন