ক্যাম্পাসে যেমন আছি
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
ক্যাম্পাসে যেমন আছি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আগের জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৮৫৮ সালে এবং ২০০৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫ পাস করার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কলেজ হিসাবে শিক্ষার্থীরা যে সুবিধা পেত, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবার পর সে সুবিধা ততটা বাড়েনি। নানা সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই সমস্যার কথা বলেছেন শিক্ষার্থীরা। লিখেছেন

এফ. আর. বিপুল

অনোংশা সাহা

g  মনোবিজ্ঞান বিভাগ, নবম ব্যাচ

শিক্ষক সংকট, শ্রেণী কক্ষ সংকটের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকদের অনিহার কথা তুলে ধরে বলেন, জবিতে এই কারণগুলোই সেশন জটের জন্য অনেকাংশে দায়ী। তার উপর নেই আবার আবাসন ব্যবস্থা। অনেক বিভাগই আবার শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবে বিশাল সেশন জটের শিকার হচ্ছে যা তাদের আবাসনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম অভিশাপ হয়ে দাড়াচ্ছে। আবার সন্ধ্যাকালীন কোর্সের উপর শিক্ষকদের গুরুত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস নেওয়াও বিভিন্ন বিভাগে সেশনজটকে আরো তরান্বিত করে যা একেবারেই কাম্য নয়। আর এরজন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপও কাম্য। অনেক শিক্ষক শিক্ষিকা ক্লাস     সিডিউল দিয়েও তা দেরি করেন বা ক্লাসই বাতিল করে দেন তারা আবাসনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের    কথা ভাবেন না তাদের সেশন জটের একটি দিনই কত অসহ্য যন্ত্রণার।

 

সুব্রত মন্ডল

g  বাংলা বিভাগ, ষষ্ঠ ব্যাচ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অনেক ধরণের সংকট সৃষ্টি লগ্ন থেকেই রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, গবেষণার অভাব, গ্রন্থাগারে বই সংকট, ক্যান্টিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেনের  অভাব বড় আকার ধারণ করেছে। এ সংকটগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাতারাতি নিরসন করতে পারবেনা না। এর জন্য দরকার দীর্ঘমেয়দী পরিকল্পনা।

 

কাজী ফাতেহা মুন্না

g  রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, পঞ্চম ব্যাচ

আমাদের কোন হল নেই তারপর আবার বাসের সংকট তাও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার যাওয়া আসা করে। ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প পরিমাণ বাসে চলাচল দূরূহ হয়ে পড়ে। চোখের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস যাওয়া আসা করে কিন্তু উঠতে পারি না। আমি আজিমপুর থেকে এসে ক্লাস করি অথচ আজিমপুর হয়ে যে বাস আসে তা আজিমপুরেরই শিক্ষার্থী দিয়ে পূর্ণ হয়। তারপর যাও কয়েকজন হুড়মুড় করে বাসে উঠতে পারে তার বেশির ভাগই দাড়িয়ে যেতে হয় আর পাবলিক বাসে করেই যেতে হয়। কিন্তু পাবলিক বাসে উঠাটাও সমস্যা হয়ে যায় আমাদের মেয়েদের জন্য যা আরো পীড়াদায়ক। আর পাবলিক বাসে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায় ক্লাসই মিস হয়ে যায়।

আল-রাজী মাহমুদ

g  ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, চতুর্থ ব্যাচ

মেসে ভাড়া থাকতে গিয়ে পরতে হয় চরম দুর্ভোগে। ব্যাচেলদের ভাড়া দিতে চায় না। আর যেগুলোতে থাকতে হয় সেখানে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় ফলে জীবন হয়ে উঠে নরক। ব্যাচেলরদের জন্য ভাগা দেয়া হয় সেইসব রুম যেখানে সাধারণত বাস করা কঠিন বা অসম্ভব। রুমগুলোতে থাকে না কোন আলো বাতাসের ব্যবস্থা। জানালা যদি থাকেও তবে শিক্ষার্থীদের জন্য তা খুলতে মানা। আর মালিকদের আচরণ দেখলে মনে হয় আমাদের জীবন যেন অভিশাপ কিন্তু প্রশাসনের এটি নিয়ে যেন কোন ভ্রূক্ষেপই নেই কারন তারা তো এই অভিশপ্ত জীবন ভোগ করছেন না।

 

সোহেল এম হাসান

g  ফিন্যান্স বিভাগ, ষষ্ঠ ব্যাচ

দশ বছরেও জাবিতে হল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২ বছরে হল তৈরি হয় সেখানে জাবিতে এই দীর্ঘ মেয়াদের প্রস্তাবিত হলটি এতো বছরেও তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। প্রশাসনিক উদাসীনতাই এর জন্য দায়ি এবং আন্তরিকতার অভাব তারই প্রমাণ রাখে আর আমরা মেয়েরা এর পুরোপুরি ভুক্তভোগী। দেশের একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জবি। তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হল এই দীর্ঘ ১০ বছরেও তৈরি করা হয়নি একটি হলও। ফলে আমাদের বাহিরে অনেক টাকা ভাড়া দিয়ে থাকতে হয় অথচ এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাধারণত দেশের নুিবিত্ত মেধাবী সন্তানেরাই ভর্তি হয়। 

 

লতিফুল ইসলাম

g  বাংলা বিভাগ, দশম ব্যাচ

বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটরিয়া অথচ এটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এখানে ভালোমানের খাবার পাওয়া যায় না। নেই সাদা ভাতের ব্যবস্থা অথচ একমাত্র অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস থাকে সকালে একবার আর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যায়। ফলে ছাত্রছাত্রীদের এই ক্যাফেটরিয়ার   উপরই নির্ভর করতে হয়। আবার এখানে খাবারের   দামও বেশি। প্রতিদিন এই নিম্নমানের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা পেটের সমস্যায় ভোগে। কিন্তু বাহিরে খেতে গেলে সেটাও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে যায়। অথচ প্রশাসনের যেন এটি নিয়ে কোন মাথা ব্যথাই নেই। প্রশাসনের উচিত এটি তদারকি করা, ভর্তুকির ব্যবস্থা করে কম মূল্যে শিক্ষার্থীদের সাধ্যের মধ্যে খাবারের দাম নির্ধারণ করা।

লুত্ফুন্নেছা নোরা

g  মনোবিজ্ঞান বিভাগ, নবম ব্যাচ

বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হল জবির লাইব্রেরি। জবির লাইব্রেরিতে নেই পর্যাপ্ত বই। তারপর আবার নেই কোন ফটোকপির ব্যবস্থা। সংকট রয়েছে স্থানেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য বসার স্থান খুবই সীমিত। ফলে সেখানে চাইলেই সবসময় বসা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাইরে বসে পড়ার তেমন সুবিধা নেই তাই লাইব্রেরীতে বসার ব্যবস্থা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

শরীফ-উজ জামান

g  রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, পঞ্চম ব্যাচ

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সব বিভাগেই লক্ষ্য করা যায় রুম সংকটের বিষয়টি। আমাদের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে আগে ছিল চারটি রুম এখন তা কমে তিনটি হল। এখন ছাত্রছাত্রীরা এসে দাড়িয়ে থাকারও জায়গা পায় না। এক ব্যাচের ক্লাস চললে অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দাড়িয়ে থাকতে হয়। পরীক্ষা চললে অন্য ব্যাচের ক্লাস বন্ধ থাকে। এর ফলে সেশন জটও বাড়ছে ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক দুর্ভোগের সাথে।

 

তিথি চক্রবর্তী

g  গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, সপ্তম ব্যাচ

সান্ধ্যকালীন কোর্স চালুর মাধ্যমে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করা হচ্ছে। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসের চেয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্সকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষকরা প্রকাশ্যে বলে থাকেন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিলে ৫শ’ টাকা আয় আর সান্ধ্যকালীন ক্লাসে            ৫ হাজার টাকা আয় হয়। এটা ঠিক নয়। 

 

মু. ইসমাইল হোসাইন

g  ইতিহাস বিভাগ, দশম ব্যাচ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০ বছর হলেও আজও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না সমাবর্তনের। আর তা আদৌ আগামী কতো বছরে হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সমাবর্তন প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীরই একটি স্বপ্ন। আর প্রশাসনের উদাসীনতাই এর জন্য দায়ী এবং তাদের উচিত খুব দ্রুতই সমাবর্তনের জন্য পদক্ষেপ নেয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যার মধ্যে এটিও শিক্ষার্থীদের একটি বড় দুঃখ।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন