বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা
সময় কাজে লাগাতে হবে
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
সময় কাজে লাগাতে হবে
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাসখানেকের বেশি হয়ে গেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তি পরীক্ষা নামক যুদ্ধের প্রস্তুতি। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন শিক্ষকের কিছু টিপস ও

করণীয় সম্পর্কে জানাচ্ছেন ফাইয়াদ এইচ রিসাল

স ঞ্চারী এবার হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হবার, যথারীতি মেডিক্যালের জন্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তূর ঢাকা রেসিডেনশিয়াল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও অর্থনীতিবিদ হবার ইচ্ছে বহু আগে থেকেই, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের জন্য জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। রায়ান ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। একজন শিক্ষিত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হওয়ার ইচ্ছে থেকেই ‘গ’ ইউনিটের প্রস্তুতি নিচ্ছে সে। অন্যদিকে জয় অজপাড়াগায়ের ছেলে, তাই সে পরীক্ষা শেষে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়ে গিয়েছে, কিভাবে আগাবে সে?

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রকাশিত তারিখ অনুযায়ী হাতে এখনো দুই থেকে তিন মাস সময় আছে। প্রতিটি দিন কাজে লাগাতে পারলে সময় কিন্তু নেহায়েতই কম নয়। এই সময়টুকুতে কিভাবে শিক্ষার্থীরা আগালে চেষ্টার চূড়ান্ত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে হলিক্রস কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক ইন্দ্রজিত্ দত্ত বলেন, বইটা অবশ্যই ঠিকভাবে পড়তে হবে। বিভিন্ন মানুষের মনে একটা ভুল ধারণা বিদ্যমান যে ভর্তি পরীক্ষায় খুব কঠিন প্রশ্ন করে এবং বইয়ের বাইরে থেকে প্রশ্ন আসে। আসলে বেশিরভাগ প্রশ্ন সরাসরি বই থেকে আসে এবং খুবই অল্প সংখ্যক প্রশ্ন ঘুরিয়ে আসে তাও আবার বইয়ের টপিক্সগুলোর উপরেই। তাই অবশ্যই সবাইকে পাঠ্যবইগুলো আগাগোড়া ঠিকভাবে পড়তে হবে। আর নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে, সেটা হোক কোনো কোচিং, ব্যাচ, বড় ভাই বা নিজে নিজে। তাহলে দিনশেষে নিজের অগ্রগতি যাচাই করা যাবে। সময় এখনো আছে, চেষ্টা যেন থেমে না যায়। এবং অবশ্যই এই পুরো সময়টা রুটিন করে পড়তে হবে, প্রতিটি বিষয়ের উপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এইচএসসি পরীক্ষা শেষে এই সময়টা সবাই মোটামুটি কোনো না কোনো কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে যায়। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, ভার্সিটি সকল সেক্টরেই একাধিক কোচিং সেন্টার রয়েছে। অনেকে আবার বিভিন্ন সমস্যার কারণে কোচিং এ ভর্তি হতে পারে না, তারা প্রায় সকলেই একটি সংশয়ে থাকে কোচিং ছাড়াই নিজে নিজে পড়ে চান্স পাবে তো? ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে কোচিং করার বাধ্যবাধকতা আছে কিনা কিংবা কতটা জরুরি তা আমরা জানতে চাই হারমেন মেইনার কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক হাসিনুর রহমানের কাছে। তিনি জানান, সর্বপ্রথম পড়াশুনাটা নিজের কাছে। শিক্ষার্থী যদি অমনোযোগী হয় তবে কোনো কোচিং বা শিক্ষক কেউই কিছু করতে পারবে না। তবে শিক্ষার্থী আগ্রহী হলে কোচিং বা ব্যাচে পড়া সহায়ক হতে পারে।

প্রথমত, বিভিন্ন কোচিংগুলোতে রুটিন করে পরীক্ষা নেয়া হয়, রুটিন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এই সময়টাতে খুবই             জরুরি। এছাড়াও কোচিংগুলোতে প্রেশার দেয় বলে অনেকের পড়াশুনায় নিয়মানুবর্তিতা আসে। তবে কেউ যদি নিজেই সব             গুছিয়ে নিতে পারে তবে কোচিং বা ব্যাচে পড়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে নিজেকে রুটিন করে পড়তে হবে এবং প্রশ্ন জোগাড় করে পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে নিয়মিত যাচাই করতে হবে। কোচিং বা ব্যাচে নতুন কিছু শিখানো হয় না যা কলেজে শিক্ষার্থীরা শেখেনি, আর যা এক্সট্রা পড়ানো হয় তাও খুব বিশেষ ভূমিকা রাখে না পরীক্ষার জন্য।

শুধু একটা নিয়মানুবর্তিতার জন্য সহায়ক কিছু থাকলে মন্দ না, সেটা হোক কোচিং, ব্যাচ, বড়ভাই বা হাউজ টিউটর। তবে              শিক্ষার্থী নিজে সব ম্যানেজ করতে পারলে কারো সাহায্য ছাড়াই চান্স পাওয়া যায়, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী আছে যারা কোনো কোচিং বা কারো সাহায্য ছাড়াই নিজ চেষ্টায় চান্স পেয়েছে।

এছাড়াও ম্যাথের শিক্ষক হিসেবে হাসিনুর রহমান কিছু বিশেষ টিপস দিয়েছেন। বইয়ের সবগুলো ম্যাথ করতে হবে, বোর্ড পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সাজেশনভিত্তিক ম্যাথ করার কারণে অনেকে ম্যাথ বাদ দিয়ে যায়, সেসব ম্যাথ থেকেই দেখা যায় ভর্তি পরীক্ষায় আসে। তাই আগের বাদ দিয়ে যাওয়া ম্যাথের উপর জোর দিতে হবে। আর অবশ্যই প্রতিটি অধ্যায়ের সূত্রগুলো ভালভাবে আয়ত্ত করতে হবে। অনেকসময় শুধুমাত্র সূত্র জানলেও ম্যাথ মিলানো যায়।

অনেকেই ছাত্র হিসেবে দুর্বল বা ইন্টারমিডিয়েটের দুই বছরে আহামরি পড়াশুনা করেনি। তাদের চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঢাকা কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমান। তিনি জানান, চেষ্টা করলে সবই সম্ভব। যারা দুই বছরে কিছুই পড়েনি তাদের জন্য চান্স পাওয়া খুবই কষ্টকর, তবে যারা মোটামুটি পড়াশুনা করেছে তাদের হাতে এখনো সময় আছে। টাইমলি ঠিকমত পড়াশুনা করলে এখনো অনেক কিছু করা সম্ভব। এমন বহু নজির আছে যে শুধুমাত্র বোর্ড পরীক্ষার পরের সময়টা কাজে লাগিয়ে অনেকে অনেক ভালো সাবজেক্টে চান্স পেয়েছে। তাই আমি বলব যাতে কেউ আশা না হারায়। এখনো যথেষ্ট সময় আছে, তাই পুরো সময়টা কাজে লাগালে এখনো আশা আছে। অসম্ভব বলে কিছু নেই।

অর্থাত্, মোট কথা দাঁড়ায়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর এখন মনোযোগ পড়তে হবে এবং পুরো সময়টা কাজে লাগাতে হবে। চেষ্টা করলে সবাই পারবে, এই কথায় বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষার্থীর জন্য রইল শুভ কামনা!

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন