সা ক্ষা ত্ কা র
ক্যাম্পাসকে ক্যামব্রিজ অক্সফোর্ডে রূপ দিতে চাই
২৭ জুলাই, ২০১৬ ইং
ক্যাম্পাসকে ক্যামব্রিজ অক্সফোর্ডে রূপ দিতে চাই
প্রফেসর মো. রুহুল আমিন

বহুমুখী শিক্ষার উদীয়মান বিদ্যাপীঠ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ

বিজ্ঞান  ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)। ২০০২ সালে শুধু কৃষি অনুষদ

নিয়ে চালু হওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে ৯টি শিক্ষা অনুষদে ৪৩টি বিভাগ থেকে ২২টি ডিগ্রী প্রদান করছে। সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাদানে রয়েছে তিন শতাধিক শিক্ষক। ৬টি দেশ থেকে প্রায় দেড় শতাধিক বিদেশি শিক্ষার্থীও পড়াশোনা করছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১২ সাল থেকে দায়িত্বরত বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক

মো. রুহুল আমিন কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন নিয়ে। জানাচ্ছেন শাহীন আলম

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কোন কোন বিষয়ের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন?

দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যাম্পাসের শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলোকে সনাক্ত করি। সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করি। ভিন্ন ভিন্ন কাজ করার জন্য সকলকে উদ্যোগী করি। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জাতীয় চাহিদার নিমিত্তে ক্যাম্পাসকে অগ্রসর করার চেষ্টা করি। আর্থ-সামাজিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাবলম্বী করাও ছিল আমার অন্যতম উদ্দেশ্য। সর্বোপরি এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করে সেজন্য নিয়েছি বেশকিছু পদক্ষেপ।

 

বিগত ৩ বছরে আপনাকে কোন কোন সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে    হয়েছে?

অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার খুবই আন্তরিক। বর্তমানে ক্যাম্পাস পরিদর্শন করলেই তা অনুভব করা যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মমুখী করার চেষ্টা চালাই। মূলত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা। সেজন্য উন্নয়নমূলক কাজে সকলের সহযোগিতা পেয়েছি। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এ ক্যাম্পাসকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

 

উপাচার্য হিসেবে আপনার দর্শন?

কর্তব্য সচেতনতা তৈরি করাই আমার অন্যতম দর্শন। সবাই যেন কর্মমুখী হয়। কর্তব্য সচেতন হয়। ক্যাম্পাসে পূর্বে অফিস টাইম ও কর্তব্য নিয়ে বেশিরভাগ কর্মজীবিরা উদাসীন ছিল। এখন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে।

 

উন্নত শিক্ষা ও গবেষণায় আপনার ভাবনা কি?

এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বর্তমানে পূর্বের চেয়ে শিক্ষার গুণগতমান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সকলের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মাথা উচু করে দাড়ানো সম্ভব। তাই সকলকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণার আদলে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বর্তমান সরকার শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে অধিক বাজেটও প্রণয়ন করেছে। তাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মান অর্জন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের ক্যাম্পাসের।

 

অধ্যয়নরত দেড় শতাধিক বিদেশী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?

উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের শিক্ষার্থীরা ইউরোপ আমেরিকায় পাড়ি জমায়। আশার বিষয় হলো, আমাদের ক্যাম্পাসে বর্তমানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী ৬টি উন্নয়নশীল দেশ থেকে পড়াশোনা করছে। যা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সত্যি কথা বলতে কি, দিন দিন এ ক্যাম্পাস অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনুকরণীয় হচ্ছে। যা আমাদের গর্বের বিষয়।

 

বহুমুখী শিক্ষা সম্প্রসারণকল্পে আপনার কর্মকান্ডসমূহ কি কি?

বহুমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে। ৫-৭টি থেকে এখন ২২টি ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। তাই এখন গুণগতমান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছি। বার্ণাড রাসেল বলেছেন, গুণগতমান বৃদ্ধি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে ধারাবাহিক উন্নয়নে সময়ের সাথে সাথে শিক্ষা ও গবেষণার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব।

 

দক্ষ জনবল অন্তর্ভুক্তিকরণ নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা কি?

ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ হয়েছে বহুগুণে। আগে ৫-৭টি ডিগ্রি প্রদান করা হতো। এখন ২২টি ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। নতুন নতুন বিভাগ খোলায় দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বর্তমান সরকার দক্ষ জনবল অন্তর্ভুক্তিতে খুবই আন্তরিক। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রতি বছর গড়ে ৮-১০ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে দক্ষ জনবলের সন্নিবেশে এ ক্যাম্পাসকে ক্যামব্রিজ/অক্সফোর্ডে রূপ দিতে চাই।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন