‘শুধু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউসিজিতে অনেক বড় একটি সেল থাকা উচিত’
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
‘শুধু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইউসিজিতে অনেক বড় একটি সেল থাকা উচিত’
দেশে প্রায় শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তারপরও প্রতিবছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন পাচ্ছে। অনিয়মের অভিযোগ আছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি। দেশের শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারপরও কেমন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এসব নিয়ে কথা বলেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়া এবং টির্চাস রুমের মতো আরো অনেক সংকট আছে সেগুলোকে কিভাবে দেখছেন?

মো. সবুর খান: এটা আমাদের জন্যও খুব একটা কষ্টের। অন্যদের জন্য আমাদেরও এই বদনামের ভাগিদার হতে হয়। তবে দিন শেষে শিক্ষার্থীদের স্যাটিসফেকশনটাই হচ্ছে বড় কথা। আমরা যদি শিক্ষার্থীদের স্যাটিসফেকশন না করতে পারি তাহলে কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয় টিকে থাকতে পারবে না। সেই চিন্তা করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগই দিচ্ছি না। আমাদের এখানে খণ্ডকালীন শিক্ষকের পরিমাণ মাত্র একভাগ, তাও স্নাতকোত্তর। তাছাড়া আমরাই একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং ইতিমধ্যে পনেরোটি বাস শিক্ষার্থীদের ফ্রি চলাচলের জন্য দিয়েছি। খণ্ডকালীন শিক্ষক, টিচার’স রুমের সংকটেরতো প্রশ্নই আসে না। তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না এমন না। এটা আমাদের জন্য খুব দুঃখজনক। তাদের উচিত্ এসব সমস্যাগুলো সমাধান করা। প্রায় আঠারোটি বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার নিয়োগ দিতে পারছে না। তারা বলছে তারা খুঁজে পাচ্ছে না। এটা কি করে সম্ভব!

বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং হয় কিভাবে?

মো. সবুর খান: বাংলাদেশের একটি দুভার্গ্য যে র্যাংকিং-এর কোনো বন্দোবস্ত নেই। ইউসিজি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে র্যাংকিং-এর ব্যাপারে এগিয়ে আসা উচিত্। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে তাদের মডেল করে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুসরণ করতে বলুক তাহলেই তো হয়ে যায়। সেটাও তো করছে না।

এখন দেখা যাচ্ছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, কিভাবে দেখেন?

মো. সবুর খান: এটা খুব দুঃখজনক। যারা বিশ্ববিদ্যালয় দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে তারা এই বিষয়গুলো বিবেচনায় আনছে না। অনেক সময় দশ, বিশ, ত্রিশজন মিলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেয়, তখন তাদের নেয়া কমিটম্যান্টগুলো পরে আর ইমপ্লিম্যান্ট করে না। যার কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শর্তই মানতে পারে না এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। যেটা সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত ফেলে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপন থেকে মাঝে মধ্যে অবাক হয়ে যাই। যেমন কারো ক্যাম্পাস নেই অথচ অ্যানিমেট করে ক্যাম্পাস দেখিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাজ কি?

মো. সবুর খান: প্রথমতো হচ্ছে গুড গর্ভানেন্স কনর্ফাম করা। তাদের মূল দায়িত্ব হচ্ছে একটি স্যাটিজিক প্ল্যান করে কেপিআই সেট করে দেয়া। এগুলো সেট করার পর দেখতে হবে সেগুলো কতটা কার্যকর হয়েছে।

আরো নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিচ্ছে, সেগুলো আসলে কতটা প্রয়োজনীয়?

মো. সবুর খান: দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন আছে। না হয় এতো এতো শিক্ষার্থী পড়াশোনা করবে কোথায়। তবে ইউসিজি এর দেয়া শর্তগুলো মেনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা উচিত্। তবে বিশেষ করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা উচিত্। যেমন হতে পারে কৃষি নিয়ে, ব্যাটেনারী নিয়ে, টেকনোলজি নিয়ে।

একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় হতে হলে কোন কোন শর্ত অবশ্যই থাকতে হবে?

মো. সবুর খান: প্রথম হচ্ছে শিক্ষক, দ্বিতীয় রির্সোস। এই দুটি অবশ্যই আবশ্যক। তার পর অন্যান্য যেমন ল্যাব, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ,গবেষণা, ইনোভেশন সেন্টার ইত্যাদি। কিন্তু মূলতো এই দুটি বিষয়ই জোড় দিতে হবে।

বিশ্বদ্যািলয় শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত্?

মো. সবুর খান: এই শিক্ষাব্যবস্থাটা হওয়া উচিত্ ক্যারিয়ার নির্ভর। জব রিলেটেড। একটি বিশ্ববিদ্যালয় মানুষ বানানোর কারখানা। তো একজন শিক্ষার্থীকে এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা তাদের আগামীকে সুন্দর ভাবে গড়ে তুলতে পারে। আর সেটা যদি একটা বিশ্বদ্যািলয় না করতে পারে তাহলে পড়াশোনা করে তার কি লাভটা হলো!

ছবি: আবুল বাশার

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন