এসএমইউসিটি’র সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ
মাঠকর্ম দিবস থেকে শিক্ষা নেওয়া
ক্যাম্পাস প্রতিবেদক০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
মাঠকর্ম দিবস থেকে শিক্ষা নেওয়া
শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’র সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগ এর বিভাগীয় শিক্ষা কোর্স মাঠকর্ম (ফিল্ডওয়ার্ক) গত ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি  ২০১৭ মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মনিপুরি সম্প্রদায় ও চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন ব্যবস্থার উপর পরিচালিত হয়। বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী পৃথক পৃথক দলে মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় অংশ নেন। বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধায়নে রামনগর ও কালিঘাট ইউনিয়নে মাঠকর্ম (ফিল্ডওয়ার্ক) পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীরা চা শ্রমিক ও মনিপুরিদের আর্থ-সামাজিক জীবন ব্যবস্থার নানাবিধ বিষয়ে সরাসরি অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে উভয় সম্প্রদায়ের জীবন-যাপন, খাদ্যাভ্যাস, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ভাষা, সমাজিক রীতিনীতি-প্রথা, আনুষ্ঠানিকতা, জন্ম-মৃত্যু, চিকিত্সা ইত্যাদি বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহে মাঠকর্ম (ফিল্ডওয়ার্ক) সম্পন্ন করে।

ফিল্ডওয়ার্কের পাশাপাশি ছিল মাঠ পরিদর্শন। মাঠ পরিদর্শনের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের একমাত্র রেইন ফরেস্ট ‘লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে’। জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি-পরিবেশ, গাছপালা, বিরল প্রজাতির পশু-পাখি সবাইকে বিমোহিত করে তোলে। গভীর অরণ্যে আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথ ও পাহাড়ের উপর খাসিয়া সম্পদায়ের জীবন-যাপন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধিকে আরো সমৃদ্ধ করে। এরপর মনিপুরি পাড়া ও মাধবপুর  লেক পরিদর্শন;  লেকের অপরূপ সৌন্দর্য- পাহাড়; পাহাড়ের উপরে চা বাগান, সাথে সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য সকলকে বিমোহিত করে তোলে। সবার মুখে একটিই কথা বেরিয়ে এলো, ইশ সূর্যটা ডুবে গেল। আর সাত রঙের চা তো রয়েছেই।

রাতে হিড বাংলাদেশ, কমলগঞ্জ এর কটেজের অডিটোরিয়ামে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা হাসন রাজা ও শাহ আব্দুল করিম সহ সিলেটের হাওর অঞ্চলের বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। গানের পরে শুরু হয় মনিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মনিপুরি নৃত্য। নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় মনিপুরি নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। যা উপস্থিত সবার মনকে আনন্দে উদ্বেলিত করে তোলে এবং মনিপুরি সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনার শেষে শুরু হয় ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের পরিবেশনায় বিভিন্ন নাচ, গান, কৌতুক ও আবৃত্তি; এ যেন শেষ হবার নয়।

রাতের বারবি-কিউ পার্টির আয়োজন; ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল শিক্ষক মিলে এ পার্টিকে কেন্দ্র করে অনেক রাত পর্যন্ত আনন্দে মেতে থাকে। গভীর রাতে আর এক দল ছাত্র-ছাত্রীর উদ্যোগে শুরু হয় অগ্নি প্রজ্বলন বা ফায়ার ক্যাম্পেইন। প্রায় সারা রাত ভরে চলতে থাকে গান, গল্পবলাসহ নানান অনুষ্ঠান। ফায়ার ক্যাম্প এ আগুনের শিখার পাশে বসে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জীবনের একটি করে সত্য ঘটনা উপস্থাপন ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। রাত যেন আর একটু বড় হলে বেশি ভাল হতো। সবার গল্প শেষ না হতেই যেন রাত ফুরিয়ে গেল। এ যেন ক্লাসের বাহিরে অন্যরকম এক শিক্ষা।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:২১
যোহর১২:১৩
আসর৪:০৯
মাগরিব৫:৪৮
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৩
পড়ুন