সাতদিনের গল্প
নাজিব মুবিন২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
সাতদিনের গল্প
চারদিকে শুধু বিশাল আকারের পাহাড়। বিশাল সবুজ এসব পাহাড়ের গা বেয়ে চলে গেছে পিচঢালা পথ। উঁচু-নিচু পাহাড়ি রাস্তা। দুই পাশে সবুজ গাছ গাছালি। পথে ছোট-বড় পাহাড়ি ঝরনা। এই পথই একসময় নিয়ে যাবে পাহাড়ের চূড়ায়। খুব কাছে থেকে দেখা যাবে মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালিকে। পড়ে আছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। যতদূর চোখ যায় শুধুই সাগরের উত্তাল ঢেউ আর সুবিশাল নীল আকাশ। সমুদ্রের একেকটা গর্জন যেন শিহরিত করে তোলে প্রতিটি ইন্দ্রিয়। বাংলাদেশের এক প্রান্তে আছে সাগরের তীব্র গর্জন অন্যদিকে সবুজে ঢাকা সুবিশাল পাহাড়।

দু’চোখ ভরে এই অসম্ভব সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে আনন্দ ভ্রমণে গিয়েছিলাম আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের লেভেল-৪, সেমিস্টার-২ এর শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সাত দিনের এই ভ্রমণের আয়োজন করা হয়। ২০১৩-১৪ ব্যাচের মোট ৪৩ জনের জন্য একটি বাস রিজার্ভ করা হয়। আমাদের গ্রুপের দায়িত্বে ছিলেন ফুড টেকনোলজি ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল আলীম এবং প্রভাষক মোঃ আহ্মাদুল ইসলাম সৌরভ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসে করে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। পরদিন ভোর ৫টায় আমরা খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পৌঁছে যাই। সেখানে সকালের নাস্তা সেরে বেরিয়ে পড়ি রাঙ্গামাটির সাজেকের উদ্দেশ্যে। ৮ টার দিকে তিনটা চান্দের গাড়িতে করে রওনা দেই আমরা।

অনেকে চান্দের গাড়ির ছাদে বসে গিয়েছে। দিঘীনালা থেকে শুরু হয় সাজেক ভ্যালীর রাস্তা। পাহাড়ের গা বেয়ে দুরন্তগতিতে ছুটে চলে চান্দের গাড়ি। কখনো খাড়া উপরে, কখনো বা খাড়া নিচের দিকে, কখনো বা পুরো ১৮০ ডিগ্রি কোণ করে চলে চান্দের গাড়ি। রাস্তার একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে গভীর খাদ। এজন্য ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য। অবশেষে আমরা পৌঁছে গেলাম সমুদ্র সমতল থেকে ১৮০০ ফুট উঁচুতে। সেখান থেকে আকাশের নীলটা যেন কত কাছে মনে হয়েছিল। পরের দিন ভোরে উঠে গেলাম কংলাক পাড়ায়। যাকে রাঙ্গামাটির ছাদ বলা হয়। অসাধারণ এক অনুভূতি কাজ করছিল তখন। সাজেকের পুরো সময়টা ট্যুর গাইডের মত কাজ করেছিলেন অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ জাকির ভাই।

বিকেল সাড়ে ১০টার দিকে আমরা খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। রাতটা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ডরমিটরিতে থেকে পরদিন সকালে রওনা হলাম নীলগিরির উদ্দেশ্যে। আবারও সেই পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে উঠে নীলগিরিতে। পুরোটা পথে যাত্রা সঙ্গী হিসেবে ছিল ঘন সাদা তুলার মতো মেঘেদের দল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৬০০ ফুট উঁচু নীলগিরিতে এসে দেখি মেঘেরা সব পায়ের নিচে। পায়ের নিচে মেঘেদের দেশ ভাবতেই অবাক লাগে। ফেরার পথে দেখলাম স্বর্ণমন্দির, নীলাচল আর মেঘলা। সন্ধ্যায় রওনা দিলাম স্বপ্নের কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে। রাতে পৌঁছালাম কক্সবাজার শহরে। হোটেলে ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পড়লাম সমুদ্র দর্শনে। চোখের সামনে বিশ্বেও সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত। যেন নিজেকেই নিজের বিশ্বাস হচ্ছিল না। সমুদ্র বুকে গোসল করা, আর অনেক অনেক ছবি তোলার স্মৃতি নিয়ে ফিরলাম হোটেলে। পরদিন সকালে রওনা হলাম সেন্টমার্টিনের পথে।

টেকনাফের কিরুনতলী জাহাজ ঘাট। অবশেষে সমুদ্রের নীলাভ সবুজ পানি পেরিয়ে পৌঁঁঁঁঁছে গেলাম স্বপ্নের সেন্টমার্টিনে। রাতে সমুদ্রের সেই গর্জন মনকে উদাসীন করে দেয়।  পরদিন ট্রলারে করে ছেঁড়া দ্বীপ ঘুরে এলাম। কক্সবাজার ফিরে রাতটা হোটেলে থেকেই বেরিয়ে পড়ি ক্যামপাসের উদ্দেশ্যে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৬
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন