ভাষার মাসের ভাবনা
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ভাষার মাসের ভাবনা
ভাষার মাস অয়োময় প্রত্যয়দীপ্ত একটি মাসই শুধু নয় স্বাধীনতার সোপান, জাতীয় মূল্যবোধ ও ভাবাদর্শের বাতিঘর। ভাষা আন্দোলনের মতো বিশেষ ঘটনা ও ভাষার জন্যে সালাম, জব্বার, রফিক, শফিকদের আদর্শগত আত্মত্যাগ সুদূর প্রসারী তাত্পর্য বহন করে আমাদের জীবনে। বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও দেশের প্রতি মমত্ববোধে উদ্ধত হয়ে ভাষা শহিদদের উপহার ‘বাংলা ভাষা’। ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা একুশের বইমেলা সে ধরণের একটি উপলক্ষ্য যা বাঙালি জাতিকে অনবদ্য ঐক্যে সৃজনশীল সাংস্কৃতিক আবহে উদ্বুদ্ধ করে।

সর্বস্তরের বাংলাভাষা প্রচলন এখন আর একপক্ষীয় দাবি বা কর্মসূচি নয় বরং বাংলা ভাষা এবং এর সাহিত্য-সংস্কৃতি সমৃদ্ধকরণ সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রচেষ্টার প্রতিফলন। তারপরও বাংলাভাষার প্রতি অনেকের অনীহা দেখা যায়, ভাষার সাথে সংস্কৃতিকেও গড়ে তুলছেন পাশ্চাত্যের আদলে। এমন তথ্যই জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

লিখেছেন—সজীব বণিক

মাহমুদুল হাসান (লিটন)

বাংলা বিভাগ, শাবিপ্রবি

হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যমণ্ডিত বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জসীমউদ্দীনের মতো অনেক কবি এই ভাষায় সমাদৃত হয়েছেন, খ্যাতি লাভ করেছেন। অথচ সেই ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পরবর্তী সময়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। প্রযুক্তির অভিঘাতে সবকিছু পাল্টে যাচ্ছে। বিদেশি ভাষার প্রতি অতি আকর্ষণে অনেককে দেখা যায়, বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীনতা। আমাদের ভাষার যথেষ্ট ইতিহাস রয়েছে, ত্যাগ রয়েছে এবং মাতৃভাষাকে না জানলে কোনোভাবেই অন্যভাষায় দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করেন। বাংলা ভাষার প্রতি সবার মনোযোগ দৃষ্টি আকর্ষণে অবশ্যই সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রেজাউল করিম (রেজা)

বাংলা বিভাগ, জাবি

বাংলা ভাষার প্রসঙ্গে বলতে গেলে সর্ব প্রথম রফিক, শফিক, জব্বার যে চেতনা বুকে ধারণ করে ভাষা আন্দোলনে আদর্শগত আত্মত্যাগ করেছিল, তার কতোটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা সঙ্গত কারণেই এ প্রশ্ন আজ জাতির কাছে। ১৯৫২ সালের পর থেকে ভাষা দিবস পালিত হলেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়েছে কি? এখনো বাংলা ভাষাকে সর্বস্তরের ভাষা হিসেবে সমাদৃত পায়নি। উচ্চ আদালত ও প্রশাসনসহ সর্বত্র এখন ইংরেজির দাপট চলতে দেখা যায়। এমনকি ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র থেকে শুরু করে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুনসহ সব কিছুতেই ইংরেজির ছড়াছড়ি যা বাংলাভাষার অতীত ইতিহাসকে অবজ্ঞা করে। তিনি বলেন, ভাষার মাসে বাংলা ভাষার সর্বত্র ব্যবহারের আইনবিধি করার কোনো বিকল্প হতে পারে না।

শাম্মী বিথি

লোক প্রশাসন বিভাগ, কুবি।

আমাদের দেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভাষা সচেতনতার অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। নতুন প্রজন্মদের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা লক্ষ্য করা যায়, তারা না বাংলা, না ইংরেজি, না হিন্দি ভাষা বলছে, লিখছে অর্থাত্ কোনো ভাষাতেই সুনির্দিষ্ট ভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারছে না। হিন্দি,বাংলা ও ইংরেজিকে একসাথে জগাখিচুড়ি করে বাংলাভাষা গুরুত্ব ও ঐতিহ্যে অবহেলা করছে। বাংলা ভাষার ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার জন্যে সবার প্রতি সচেতনতা তৈরির বিকল্প কিছু হতে পারে না। বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, তাই এ ভাষাকে যথাযথ ব্যবহার করা প্রতিটা মানুষের দায়িত্ব।

আফসান সারওয়ার(আশা)

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাবি

ভাষার মাসে বিভিন্ন বইমেলায় হাজার হাজার বইয়ের ছড়াছড়ি দেখা যায়। লেখার মান অতটা ভালো না হওয়া সত্ত্বেও বাংলা ভাষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে অনেকেই বিভিন্ন বই বের করছে। নিজেদের নামের পাশে কবি আত্মপ্রকাশের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় অনেকে বাংলা-ইংরেজি মিশ্রণের গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস লিখছে যা ভাষার ইতিহাসকে বিকৃতি করে। এমন গল্প, প্রবন্ধ ও উপন্যাস লিখে যারা নিজেদেরকে কবির আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা আসলে জানে না যে, বাংলা ভাষা শুধু আমাদের দেশের নয়, ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও সমাদৃত। তাই এর ব্যবহারবিধি আমাদের অবশ্যই জানা উচিত।

শাকিলা সরকার

বাংলা বিভাগ, কুবি

মানুষ তার দৈনন্দিন রুচি পাল্টাচ্ছে। প্রতিনিয়তই পাশ্চাত্যের আদলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে এক ব্যর্থ প্রচেষ্টায় মেতে উঠছে।

এসব থেকে তরুণদের বের করে আনার জন্যে বাংলাভাষার সর্বত্র ব্যবহার ও ভাষাকেন্দ্রিক চেতনা, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলা ভাষার প্রতি প্রবল অনুরাগ ও দেশের সংস্কৃতির উপর মমত্ববোধ সৃষ্টিতে অবশ্যই বইকেন্দ্রিক একটি সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে সরকারের সুদৃষ্টি দিতে হবে।

রেজাউল করিম (রাজু)

রসায়ন বিভাগ, চবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্বায়নের যুগে বাংলা ভাষার ব্যবহার চাইলেও সর্বত্র করা অসম্ভব।

তবুও যেটুকু সম্ভব শুদ্ধভাবে যেন বাংলা ভাষার ব্যবহার করা হয়। তা হতে পারে নাটকে, কবিতায়, গল্পে কিংবা সিনেমায়। বাংলা শব্দের সাথে ইংরেজি , আরবি বা হিন্দি মিশ্রণে কোনো বীরত্ব নেই।

বরং সঠিক ও সুন্দরভাবে বাংলাভাষা এবং সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের আদর্শ জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারি।

সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। বাংলাভাষার প্রতি ভালবাসা থাকতে হবে। এর মাধ্যমে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৬
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পড়ুন