টেকবিশ্বে নিয়োগের শীর্ষ চাহিদাগুলো
০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
টেকবিশ্বে নিয়োগের শীর্ষ চাহিদাগুলো
 

বিশ্ব এখন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে। শুধু পেশার দিক থেকেই নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও এখন প্রযুক্তির সম্পর্ক ওতপ্রোত। প্রায় সব ধরনের চাকরির বাজারও এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীদেরও তাই প্রথম পছন্দ প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। দেশে ও বিদেশে এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ কর্মীদের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এই খাতে কাজ করারও রয়েছে অনেক বিভাগ। শুধুমাত্র বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগই নয়, ফ্রিল্যান্সিং হিসেবেও রয়েছে এসব পেশায় ব্যাপক চাহিদা। আগামী কয়েক বছর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোয় চাহিদার শীর্ষে থাকবে এমন কিছু পেশার কথা এই লেখায় তুলে ধরেছেন রবি হাসান

১. সফটওয়্যার ডেভেলপার

প্রযুক্তিবিশ্বে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন সফটওয়্যার ডেভেলপাররা। তাদের অগ্রাধিকার এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই আছে। সফটওয়্যার ডেভেলপারদের মধ্যেও রয়েছে কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে; যেমন—অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপার, ডেটাবেজ ম্যানেজেমেন্ট সিস্টেম প্রভৃতি। এই খাতে রয়েছে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গঠনের বিশাল সম্ভাবনা। বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০২২ সালের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন হবে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার সফটওয়্যার ডেভেলপার। বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের সফটওয়্যার ডেভেলপাররাও অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

২. ওয়েব ডেভেলপার

প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই এখন ইন্টারনেটের ব্যবহার কমবেশি রয়েছে। আমাদের দেশেও অফিস-আদালতগুলো ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, সব প্রতিষ্ঠানেরই এখন রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। যাদের নেই, তারাও ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছেও এখন যোগাযোগের জন্য ওয়েবসাইট অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এসব ওয়েবসাইটের ডিজাইন কিংবা ইউজার ইন্টারফেস তৈরিতে ওয়েব ডেভেলপার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের চাহিদা তাই প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশেও এখন ওয়েব ডেভেলপারদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নেই।

৩. আইটি ম্যানেজার

আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বে থাকেন একজন আইটি ম্যানেজার। বিভিন্ন গ্রুপের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করাই তাদের অন্যতম প্রধান কাজ। শুধু আইটি প্রতিষ্ঠানেই নয়, এখন প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই একটি করে আইটি বিভাগ থাকে। এই বিভাগের কাজ তদারকির জন্য আইটি ম্যানেজার নিয়োগ করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারগুলোর নানাবিধ সমস্যা-সমাধান থেকে শুরু করে এর তদারকি করাই তার কাজ। আইটি ম্যানেজারদের চাহিদাও সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে।

৪. কম্পিউটার প্রোগ্রামার

একটি সফটওয়্যার তৈরিতে প্রোগ্রাম লেখার কাজটি করে থাকেন একজন প্রোগ্রামার। আর তাই একটি সফটওয়্যার তৈরিতে তাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রিরাইট, ডিবাগ কিংবা সফটওয়্যার কোয়ালিটি টেস্ট করাই তাদের মূল কাজ। সফটওয়্যারের পেছনের কারিগরও তারাই। তাই প্রোগ্রামারদের চাহিদা কমারও নিকট আশঙ্কা নেই।

৫. গ্রাফিক্স ডিজাইনার

গ্রাফিক্স ডিজাইনের চাহিদা নেই, এমন কোনো প্রতিষ্ঠান বোধহয় এখন আর নেই। সফটওয়্যারের মানোন্নয়নের সাথে সাথে গ্রাফিক্স ডিজাইনও অনেক আপডেট হয়েছে। ডিজাইনের মধ্যে আসছে ভিন্নতা। প্রিন্টিং, ভিজ্যুয়ালাইজেশন থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স সম্পর্কিত সব কাজের চাহিদাই দিনে দিনে বেড়ে চলেছে  বহুগুণে।

৬. কম্পিউটার সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর

বড় প্রতিষ্ঠানসমূহের কম্পিউটার সিস্টেম দেখভালের মূল দায়িত্ব পালন করেন সিস্টেম অ্যাডমিনরা। সময়ের সাথে সাথে এই খাতে অভিজ্ঞদের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৭. কম্পিউটার সিস্টেম অ্যানালিস্ট

প্রযুক্তিবিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা দখল করে রেখেছে কম্পিউটার সিস্টেম অ্যানালিস্টরা। একটি কম্পিউটরের সিস্টেম, সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, এটি তদারকি করাই তাদের মূল কাজ। আর এই কাজটির চাহিদাও ব্যাপক। দিনে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সিস্টেম অ্যানালিস্টদের কাজও। তাদের কাজের মধ্যে পড়ে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কিং এবং কম্পিউটারের সিস্টেমের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট।

৮. ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন তথ্য ব্যবস্থাপনা একটি দুরূহ কাজ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ ডাটা নিয়ে কাজ করে থাকে। আর এসব তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় করে বিশাল অংকের অর্থ। আর এর কারণ হলো আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে খুবই সতর্ক। তাই এই খাতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

৯. ডাটাবেজ অ্যাডমিন

ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা একটি জনপ্রিয় এবং চাহিদাসম্পন্ন পেশা। বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও রয়েছে এই পেশাকে ঘিরে। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে এক বা একাধিক ‘বিগ ডাটা’ প্রজেক্ট। আর এর ফলে ডাটাবেজ অ্যাডমিনের চাহিদাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এই ডাটাবেজ অ্যাডমিনের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই একাধিক লোক নিয়োগ করা হয়।

১০. কম্পিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট

আইটি পণ্যের ব্যবহারকারী যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি করে এসব পণ্যের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্যও প্রয়োজন হচ্ছে দক্ষ কর্মী। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজটিই তারা করে থাকেন। এই খাতেরও রয়েছে সম্ভাবনা।

১১. অ্যানিমেটর

হলিউড থেকে শুরু করে প্রায় সব দেশের চলচ্চিত্রেই এখন অ্যানিমেশনের ব্যবহার বাড়ছে। দর্শকদের কাছেও অ্যানিমেশনের কাজগুলো আগ্রহ তৈরি করছে। বাংলাদেশেও অ্যানিমেশনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চ্যানেলগুলোতেও অ্যানিমেটরদের চাহিদা বেশি। তাই একজন ভালো অ্যানিমেটর হতে পারলে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা নেই।

১২. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার

একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে, আইটি সেক্টরে যারা কাজ করে, তাদের একটি বিশাল অংশই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য তৈরিতে তাদের রয়েছে ভূমিকা; বিশেষ করে ডিজাইনের দিক থেকে। আর তাই হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠাসমূহে তাদের চাহিদাও রয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংও তাই হতে পারে আকর্ষণীয় পেশা।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন