শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে নতুন মাত্রা
বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ‘সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি’ এর কার্যক্রম
১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে ‘সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি’ এর কার্যক্রম
আমাদের দেশ থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে প্রচুর শিক্ষার্থী দেশের বাইরে চলে যায় প্রতি বছর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও রয়েছে এই শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায়। ভারতে যে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোতে অধ্যায়নের লক্ষ নিয়ে এদেশের শিক্ষার্থীরা চলে যান সেখানে সে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- ‘সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি’। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভারতেই রয়েছে ১০টি কলেজ। সম্প্রতি সিকম এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যন শ্রী অনীস চক্রবর্তীর সাথে কথা হয় ভারত বর্ষের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। তা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন মোজাহেদুল ইসলাম

সিকম ৫৪ বছরের একটি কোম্পানি। ১৯৬৩ সালে এই কোম্পানি প্রথম কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো প্রকাশনা দিয়ে। তত্কালীন ফাউন্ডার চেয়াম্যান নিলীমা চক্রবর্তী এই কোম্পানির কাজ শুরু করেন সার্বিক প্রকাশনীর মাধ্যমে। ১৯৭৩ সালে এটাকেই সূর্য প্রকাশনীতে রুপান্তর করা হয় যে প্রকশনীটি এখন পর্যন্ত ভারতবর্ষে আস্থা অর্জনকারী প্রকাশনী হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৩ সালে শিপিং ব্যবসার কাজ শুরু করে এই কোম্পানিটি। সর্ব প্রকার জাহাজের বয়লার, ইনভারমেন্টের কাজ, ওয়াটার পলিউশন, এয়ার পলিউশন, বয়লার, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট এই কাজগুলো দিয়েই শিপিং এর কাজ শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে মূলত সিকম মেরিন কলেজ এর জন্ম হয়। এই প্রসঙ্গে শ্রী অনীস চক্রবর্তী বলেন,‘ভারত বর্ষের প্রথম সারির প্রাইভেট মেরিন কলেজ স্থাপিত হয় আর তা প্রতিষ্ঠা করে সিকম গ্রুপ। যখন ভারত সরকার প্রথম বেসরকারি মেরিন কলেজের অনুমতি দেয় তখন থেকেই এই কলেজ এখন পর্যন্ত ৩ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে গুনগত মানের মেরিন শিক্ষা দিয়েছে যা, একটি বিশ্ব রেকর্ড।’

বর্তমানে সিকম স্কিলস এর কতগুলো শাখা বা ক্যাম্পাস রয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রী অনীস চক্রবর্তী বলেন,‘বর্তমানে সিকম এডুকেশনাল ইনিসিয়েটিভ এর ১০টি কলেজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি আইটিআই, ২টি মেরিন কলেজ, ১টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, একটি ম্যানেজমেন্ট কলেজ, ১টি বিএড কলেজ ও অন্যটি ইউনিভার্সিটি।’

তিনি আরো বলেন,‘এমন কোনো শিক্ষাব্যবস্থা নেই যে পদ্ধতিতে সিকম-এ শিক্ষা গ্রহন করা যায় না।

এখন পর্যন্ত আমাদের একটি শক্তি অদৃশ্য হিসেবে কাজ করে আর তাহলো- আমরা এখনো আমাদেরকে স্টার্টআপ হিসেবে ভাবছি। এখনো আমরা মনেকরি, শিক্ষার্থীদের যা দরকার সেটা করাই আমাদের কাজ।’

আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন ৬/১/এ, পার্ল স্ট্রিট, ২৯, রিং রোড, শ্যামলী, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানায় এবং সরাসরি কথা বলতে পারেন ০১৭১১৪৫৮৯৭৩ এই নম্বরে। এছাড়াও যোগাযোগ করতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট  www.seacomskillsuniversity.org ও [email protected] এই ই-মেইলের মাধ্যমে।

 

স্কিলস ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে অনীস চক্রবর্তী জানান, ২০১৪ সালে ওয়েষ্ট বেঙ্গলে সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি শুরু হয়। ভারতবর্ষে এটিই প্রথম স্কিলড ইউনিভার্সিটি। এই আইডিয়াটি নিয়েই ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী চালু করেছিলো স্কিলড ইন্ডিয়া।

শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে তিনি বলেন,‘যে যে পেশাতেই থাকুক না কেনো তাকে স্কিলড হওয়া দরকার। বর্তমান সময়ে বাঁচতে গেলে অবশ্যই দক্ষতাসম্পন্ন হয়ে বাঁচতে হবে।’

সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি এর শিক্ষাব্যবস্থায় যে প্রক্রিয়ায় স্কিলড করা হয়ে থাকে সেই প্রসঙ্গে অনীস চক্রবর্তী বলেন,‘যাবতীয় স্কিলড এর উপর বেইজ করে আমাদের কারিক্যুলাম দেয়া রয়েছে। আমাদের এমন কিছু কৌশল রয়েছে যা, ভারতবর্ষ তথা পৃথিবী জুড়েই কম লক্ষনীয়। আমরা এই কৌশলগুলোই বাংলাদেশে এনে পরিচিত করার পাশাপাশি তার সুফল দেয়ার চেষ্টা করছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থীই, সে বিকম বা বিএসসি যা-ই পড়ুক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুক বা ডিপ্লোমা পড়ুক শিক্ষাগ্রহণের সময় তাকে একটি মেজর স্কিলস ও একটি মাইনর স্কিলস ট্রেনিং নিতে হবে। যেমন- কেউ যদি জার্নালিজম পড়তে চায়, তাহলে এই সাবজেক্টে পড়তে দুইটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো বিদেশি ভাষা ও ফটোগ্রাফি। এখানে বিদেশি ভাষাকে সে মেজর স্কিলস ও ফটোগ্রাফিকে মাইনর স্কিলস হিসেবে নিতে পারে। ধরুন কেউ বিকম পড়ছে। এখন সে ম্যানেজমেন্ট সাবজেক্টকে সে মেজর ও প্লাম্বিংকে মাইনর হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। অনেকেই হয়তো ভাববে বিকম এর সঙ্গে প্লাম্বিং এর সম্পর্ক কী? ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা গবেষণা করে দেখেছি যে, ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে প্লাম্বিং এর সম্পর্ক রয়েছে।’

 

প্রতিটি দেশেই রয়েছে দক্ষ লোকবলের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনীতা পূরণের লক্ষ্যে সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি কীভাবে কাজ করবে? এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন,‘আমরা এমন কোনো জায়গা তৈরি করতে পারিনি যেখানে সব কিছু অটোমেশনে চলবে। যেমন ধরুন- কার্ড পাঞ্চ করে গাড়ি পার্কিং করা যাবে বা কার্ড পাঞ্চ করে দরজা খুলবে। এখন প্রশ্ন হলো- তাহলে এই কাজগুলো যে লোকেরা করতো তারা কোথায় যাবে? আমরা হলাম হিউম্যান রিসোর্স-এ খুব জনপ্রিয়। আমাদের জনশক্তিকে এমন করে প্রস্তুত করতে হবে, এমন স্কিল বেসড করে গড়ে তুলতে হবে যাতে মেশিনের কাজগুলোকে মানুষ দিয়ে খুব সস্তায় করা সম্ভব হয়। আমাদের দেশে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানই বিদেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তির মেশিন স্থাপন করেছে। এই মেশিনগুলো দিয়ে খুব অল্প সময়ে অনেক কাজ সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু কথা হলো- এই মেশিনগুলো দেখভাল করার লোক আমাদের দেশে যথেষ্ঠ নেই। টেকনিক্যাল ত্রুটি থেকে শুরু করে অন্য যেকোনো প্রকার ত্রুটির জন্য আমাদের বিদেশ নির্ভর হতে হচ্ছে।’  এই ধরনের জটিলতা কাটাতে যা প্রয়োজন সে সম্পর্কে তিনি আরো বলেন,‘কনভেনশনাল এডুকেশন ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে একত্রিত করে দিলে এমন সমস্যা থেকে হয়তো পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।’

শিক্ষাব্যবস্থায় ভোকেশনাল শিক্ষার প্রয়োজন দেখিয়ে বিভিন্ন দেশের উদাহারণ দিয়ে তিনি বলেন,‘কোরিয়া ও তাইওয়ানের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাবো যে- তারা কনভেনশনাল এডুকেশনের পাশাপাশি ভোকেশনাল স্কিলড এমন ভাবে গ্রহণ করছে যাতে ঐ দেশের একজন টেন পাস লোক বড় বড় ইঞ্জিনিয়রদের থেকে বেশি কাজ উপহার দিতে সক্ষম হচ্ছে। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যতক্ষণ পর্যন্ত না এই বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা যাচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দেশের গ্রাজুয়েটদের মাল্টি ট্যালেন্ট হিসেবে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না। ‘সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি ’ এ দিককেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’

এদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি কী ধরনে সুবিধা প্রদান করবে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘বিশ্বমানের পড়াশোনা, বিশ্বমানের ব্যবস্থাপনা, বিশ্বমানের কোম্পানি, বিশ্বমানের ইউনিভার্সিটি হওয়া সত্ত্বেও অকল্পনীয় কম খরছে লেখাপড়ার সুযোগ বিশ্বে  সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি ছাড়া কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই। আমাদের টার্গেট হলো- কোনো শিক্ষার্থীকেই লেখাপড়ার জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ দেয়া যাবে না।’ তিনি আরো জানান, আমাদের দেশ থেকে কোনো শিক্ষার্থী যদি ভারতে পড়াশোনা করতে যেতে চায় তাহলে আমার মতে সে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে না। ভারতের শান্তি নিকেতনের মতো জায়গায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে। এখান থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন নোবেল বিজয়ী হয়েছেন। এটি যথেষ্ঠ শান্তির জায়গা; যেখানে না হবে কোনো শিক্ষার্থীর ভাষাগত সমস্যা না হবে থাকা খাওয়ার সমস্যা।

‘সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি ’ আমাদের দেশে যখন কার্যক্রম চালু করবে তখন তার ধরন কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,‘আমাদের এখানে ভর্তির আসন সংখ্যা সীমিত। আপাতত বাংলাদেশে আমরা প্রচার চালাচ্ছি। যে পরিমাণ সাড়া পাবো তার ওপর ভিত্তি করেই আসন সংখ্যা নির্ধারন করবো। তবে, আমাদের প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টে ১০০ জনের মতো স্টুডেন্ট নেয়া হয়। শুনেছি, অনেক শিক্ষার্থীই পাবলিক কলেজ ও ইউনিভার্সিটিগুলোতে একাধিক বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলোর দিকে ঝুঁকছে। এখানে ঐ শিক্ষার্থী নিজেও জানতো না যে, সে এই ধরনের ইনস্টিটিউট- এ ভর্তি হবে। আমরা চাই- কোনো শিক্ষার্থী যদি আমাদের এখানে ভর্তি হতে চায় তাহলে সে যেনো ক্লাস নাইন বা টেন থেকেই ভিতরে ভিতরে লালন করতে থাকে যে, সে এই ইনস্টিটিউটে ভর্তি হবে। এতে করে সে আগে থেকেই প্রস্তুত হতে শুরু করবে এবং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকবে।’

আমাদের দেশে দেখা যায় ভর্তি সংক্রান্ত ব্যপারে প্রথম দিকে পাবলিক কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে চেষ্টা করা হয়। সেখানে সুযোগ না পেলে পরবর্তীতে বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলোতে চেষ্ট করা হয়। এক্ষেত্রে সিকম স্কিলস ইউনিভার্সিটি কী পাবলিক কলেজ বা ইউনিভার্সিটি থেকে বাতিল হওয়াদের নিয়ে কাজ করতে চায়? এই প্রসঙ্গে শ্রী অনীস চক্রবর্তী বলেন,‘কোনো শিক্ষার্থী যদি লেখাপড়া নিয়মিত হতে না পারে তার মানে সে খারাপ স্টুডেন্ট না। আমাদের উদ্দেশ্য হলো কোনো ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে এনে সমাজে তাকে যোগ্য করে গড়ে তোলা।’ তিনি আরো বলেন,‘ আমাদের ইচ্ছা রয়েছে যে, ইন্টারন্যাশনাল বেকালারেট  Inteational Baccalaureate (আইবি) সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়ার। এটি একটি ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কারিক্যুলাম।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন