ভূমিকম্পের পর নতুন করে গার্মেন্টস পরিদর্শন
ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ভবনে ফাটল বা হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ এপ্রিল, ২০১৫ ইং
ভূমিকম্পের পর নতুন করে গার্মেন্টস পরিদর্শন
সামপ্রতিক ভূমিকম্পের পর ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা গার্মেন্টস কারখানাসমূহের কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পরিদর্শন করা হচ্ছে। বিশেষত ভূমিকম্পের পর যেসব কারখানায় ফাটল দেখা দিয়েছে বা কোন ধরনের সমস্যা দেখা যাচ্ছে সেগুলো দ্রুত পরিদর্শন করা হচ্ছে। কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের আলাদা দুটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমপ্রতি নেপালে বড় ধরনের ভূমিকম্পে দেশটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই দিনসহ বাংলাদেশেও একাধিকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকায় ভবনে ফাটল বা হেলে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ দুটি জোটের পক্ষ থেকে নতুন করে কারখানা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

অ্যালায়েন্সের বিবৃতিতে বলা হয়, পরিদর্শনের পর বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানা ভবনে বড় ধরনের ঝুঁকির কথা এখনো শোনা যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভূমিকম্পের পরও সব কারখানাই কাঠামোগতভাবে ঠিক আছে। বেশকিছু শ্রমিক ফোন করে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসব কারখানা নতুন করে পরিদর্শন করতে হবে। কোন ভবনে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিদর্শনের জন্য অ্যালায়েন্সের প্রধান নিরাপত্তা পরিদর্শকের নেতৃত্বে একটি দল প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশে অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ রবিন ইত্তেফাককে বলেন, যেসব কারখানা ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যালোচনায় ছিল এবং যেসব কারখানা আংশিক বন্ধ রয়েছে প্রথম দফা পরিদর্শনে সেগুলোই পরিদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া ভূমিকম্পের পর অ্যালায়েন্সের হট লাইনে ফোন করে শ্রমিকরা যেসব কারখানা ভবনে ফাটল কিংবা ঝুঁকির তথ্য জানিয়েছে সেগুলোও পরিদর্শন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৩টি কারখানা পরিদর্শন করে ৩টি কারখানা বন্ধ করার জন্য সরকারি কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে অ্যাকর্ডের পরিদর্শনকৃত কারখানা ভূমিকম্পের পর সমস্যা চিহ্নিত করতে দ্রুত যথাযথ প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষা করানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। বিশেষত ইতিমধ্যে প্রাথমিক পরিদর্শনে যেসব কারখানা ভবনকে ডিইএ (ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট) করতে বলা হয়েছে, এমন অন্তত ২শ’ কারখানাকে দ্রুত পরিদর্শন সম্পন্ন করে তা অ্যাকর্ডকে জানাতে বলা হয়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর কারখানা পরিদর্শনে গঠিত হয় দুটি জোট। অ্যাকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ এবং অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি নামে এ দুটি জোট বর্তমানে কাজ করছে। ইতিমধ্যে অ্যাকর্ড প্রায় ১ হাজার ২শ’ ও অ্যালায়েন্স প্রায় ৬শ’ কারখানার প্রাথমিক পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিক পরিদর্শনে ঝুঁকির বিবেচনায় ইতিমধ্যে ৩২টি কারখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছোট-বড় ত্রুটি সংশোধনে কারখানাগুলোকে বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন