নারীর সামাজিক সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান
মহিলা পরিষদের বাজেট আলোচনা
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ জুন, ২০১৫ ইং
নারীর সামাজিক সুবিধা উন্নয়নের আহ্বান
নারীর জন্য বাসস্থান ও যাতায়াত, শিশুদের ডে-কেয়ার এই বিষয়গুলোতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞজনরা। তারা মনে করেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে এই বিষয়গুলো দেখার প্রয়োজন আছে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে পরিষদের উদ্যোগে ‘২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন কর্মসূচি ও জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট’ বিষয়ক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিআইডিএসের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. বিনায়ক সেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নিলোর্মী। প্যানেল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ; বিশেষ আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

আয়শা খানম বলেন, পলিসি নির্ধারণ করে নারী আন্দোলনকে কাজ করতে হবে। মহিলা পরিষদ লৈঙ্গিক সমতা আনয়নের জন্য ওপর থেকে নিচ এবং নিচ থেকে ওপর এভাবে কাজ করে থাকে ।

ড. বিনায়ক সেন বলেন, গ্রামীণ এলাকায় ৬৫-৭০ শতাংশ বিয়ে হয় যখন নারীদের বয়স থাকে ১৮ বছরের নিচে। বাজেটে শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে মাতৃমৃত্যু হার কমানো যাবে না।  আমাদের এখন ভাবতে হবে কীভাবে আগামী ১০ বছরে মজুরিহীন শ্রম থেকে আমরা মজুরিভিত্তিক শ্রমে প্রবেশ করবো।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মী জেন্ডার বাজেটের তিনটি উদ্দেশ্য মোটা দাগে উল্লেখ করেছেন। এক. নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাদের সামাজিক মর্যাদাবৃদ্ধি। দুই. শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং তিন. জেনারেল পাবলিক সেক্টরে নারীর প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা। ২০১১ সালে অফিসিয়াল হিসেবে দেখা গেছে ১৫.৪ মিলিয়ন হচ্ছে কৃষক। কিন্তু এখানে নারী কৃষকদের সম্পর্কিত কোনো তথ্য নেই। আমাদের বেকার শ্রমগোষ্ঠী নারী ৫.৮। নারীর শ্রমবাজার তৈরি করার দিকনির্দেশনা কোথায় আছে তা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে।

রোকেয়া কবির বলেন, যতটুকু বরাদ্দই হোক বরাদ্দকৃত বাজেট কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজেই যারা এগুলো নিয়ে কাজ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। নারীদের নির্ভরশীল ভাবতেই তারা বেশি পছন্দ করেন আর এ কারণে বাজেটেও এই বিষয়গুলোর প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।  

অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা ও বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অর্জন বিশাল। ৫/৬ বছরে আমরা ৪টি মন্ত্রণালয় থেকে ৪১টি মন্ত্রণালয়কে জেন্ডার বাজেটের আওতাভুক্ত করতে পেরেছি। কিন্তু সংখ্যা দিয়ে তা পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। আমরা কোনো জেন্ডার বাজেট চাইনি— জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট চেয়েছি। 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন