আদিবাসী নির্যাতন বন্ধে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই
জাতীয় সেমিনারে ড. মিজানুর রহমান
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
g ইত্তেফাক রিপোর্ট

সরকার নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তারা আদিবাসী শব্দটিই ভুলে গেছেন। আদিবাসী বিষয়ে সরকার আন্তরিক নয় বিধায় কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ হয়নি।

গতকাল রবিবার সকালে ডেইলি স্টার ভবনে ‘আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা: ইউপিআরে সরকারের প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে ‘স্টেট অব ইউপিআর প্রগেশন ২০১৪: বাংলাদেশে ইনডিজেনাস পিপলস প্রসপেকটিভ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। একশন এইডের সহযোগিতায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আদিবাসী নারী ও কন্যা শিশুসহ দেশের সকল নারীকে নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ। পাশাপাশি সরকার চেষ্টা করছে নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলো আমরা যেন ভুলে যাই। এতে করে সরকার ও রাষ্ট্র ভুল পথে এগুচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আদিবাসী নারীকে নির্যাতন করে উচ্ছেদ করতে পারলেই তাদের ভূমি দখলদারদের হয়ে যাবে। এ সমস্যা সমাধানে সমতলে ভূমি কমিশন গঠন ও পার্বত্য আদিবাসীদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবীর বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগ আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের মানবাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। 

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসী নারীরা ৫টি কারণে বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়। প্রথমত নারী হওয়ার কারণে, দ্বিতীয়ত আদিবাসী হওয়ার কারণে, তৃতীয়ত গরীব হওয়ার কারণে, চতুর্থত প্রান্তিক এলাকায় বসবাস করার জন্য এবং পঞ্চমত নিজ বাসভূমি থেকে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্ম আহ্বায়ক চৈতালী ত্রিপুরা। তিনি বলেন, সরকার ইউপিআরে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশু সংক্রান্ত দুইটি সুপারিশ সরাসরি গ্রহণ না করলেও সাধারণভাবে নারী ও কন্যাশিশু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও তাদের উপর যে কোন সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

কাপেং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন একশন এইডের প্রোগ্রাম পলিসি ও ক্যাম্পেইনের পরিচালক আজগর আলী সাবরি পরিচালক, দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, নারীপক্ষের সদস্য কামরুন নাহার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন