বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র খননে আগ্রহী বাপেক্স
আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে দরপত্রে প্রথম অংশগ্রহণ
মাহবুব রনি১৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
কুমিল্লার বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করতে আগ্রহ দেখিয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্স। বহুজাতিক কোম্পানি ক্রিস এনার্জির পরিচালনাধীন এ গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুইটি কূপ খননে আন্তর্জাতিক দরপত্র কিনেছে। কূপ খননে দরপত্র সংগ্রহ করেছে বিদেশি চারটি কোম্পানিও। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মত তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।  দরপত্র গৃহীত হলে রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি আগামী অক্টোবরেই ক্ষেত্রটির ৬ ও ৭নং কূপ খননের কাজ শুরু করবে।

পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স সূত্র বলছে, বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রটির ঐ কূপ খনন ও গ্যাস উত্তোলনের সামর্থ্য ও সুযোগ বাপেক্সের ভালোভাবেই রয়েছে। কারিগরি যন্ত্র এবং জনবলও সন্তোষজনক। তাই কুমিল্লার মুরাদনগরের এ গ্যাসক্ষেত্রের ৬ ও ৭ নং কূপ খননের কাজ বিদেশি কোম্পানির চেয়ে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মাধ্যমে করা হলে দেশ বেশি লাভবান হবে। কোম্পানিটিরও দক্ষতা বাড়বে।

বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রের প্রাক্কলিত মজুদ ৫০ হাজার কোটি ঘনফুট (অর্ধ ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ আছে ৩০৯ বিলিয়ন ঘনফুট। ক্ষেত্রটির চারটি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমানে এ কূপগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, বাঙ্গুরায় কূপ খননের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। কূপ খননের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এখন নতুন ও অত্যাধুনিক রিগও (খননযন্ত্র) আছে। জনবলও হাতে রয়েছে। সব মিলিয়ে ঐ দুইটি কূপ খনন করতে আমরা আগ্রহী। তিনি বলেন, এবারই প্রথমবারের মত আমরা আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছি। এ কাজটি করতে পারলে বাপেক্সের প্রাতিষ্ঠানিক আত্মবিশ্বাস বাড়বে। জনবলেরও দক্ষতা ও সাহস বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার কার্যক্রমও এগিয়ে নেয়া যাবে।  সব মিলিয়ে কাজটি পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

বাপেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রের ৬ ও ৭নং কূপ খননের জন্য চলতি বছরের ১৪ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে ক্ষেত্রটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ক্রিস এনার্জি। দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ জুন বাপেক্স এই দরপত্রে অংশ নেয়। বাপেক্স ছাড়াও আরও চারটি প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার গ্যাজপ্রমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরিয়াল এবং চীনের সিনোপ্যাক। তিনি জানান, কাজটি পেলে বাপেক্সের রিগ-১০ ব্যবহার করা হবে। এটি বাংলাদেশে ব্যবহূত গ্যাজপ্রমের অন্য রিগগুলোর চেয়ে আধুনিক।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, দরপত্রে অংশ নেয়ার পর ক্রিস এনার্জির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার বাপেক্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। এছাড়া বাপেক্সের কূপ খননে ব্যবহূত রিগ পরিদর্শনসহ অন্যান্য কাজ সম্পর্কে খোঁজ নেয়। অক্টোবর মাসে ক্রিস এনার্জি এ দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা করেছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই দরপ্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের নয় নম্বর ব্লকে বাঙ্গুরা গ্যাসক্ষেত্রটি উন্নয়নের কাজ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি তাল্লো। ক্ষেত্রটিতে নাইকোর ৬০ ভাগ এবং বাপেক্সের ১০ ভাগ অংশীদারিত্ব  রয়েছে।  তাল্লোর অংশীদারিত্ব ছিল ৩০ ভাগ এবং তারাই গ্যাসক্ষেত্রটি পরিচালনা (অপারেটিং) করত।  ২০১৩ সালে ৪ কোটি সাড়ে ২৩ লাখ ডলারে তাল্লোর সব শেয়ার কিনে নেয় ক্রিস এনার্জি। ঐ বছরের ১৭ ডিসেম্বর ক্রিসের কাছে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়। এরপর থেকে গ্যাসক্ষেত্রটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় ক্রিস এনার্জি। চারটি কূপ খনন করে তারা গ্যাস উত্তোলন করছে। গত বছর প্রতিদিন গড়ে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। চলতি বছর উত্পাদন বেড়ে যায়। বর্তমানে চারটি কূপ থেকে ১০৮ থেকে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট উত্তোলন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ৬ ও ৭ নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৭ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:১৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৩৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
পড়ুন