অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের ধরতে অভিযান
প্রতিরোধে পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক যৌথ সভা
বিশেষ প্রতিনিধি২৭ আগষ্ট, ২০১৫ ইং
ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ফুটপাত, লঞ্চঘাট, রেল ও বাসের ভেতরে, টার্মিনালে বা স্টেশনে, হাটবাজারে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি  এ কে এম শহীদুল হক। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে অজ্ঞান বা মলম পার্টির অপতত্পরতা রোধে গতকাল বুধবার পুলিশ সদর দফতরে  এক সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

চলতি বছরে রাজধানীতে ডিবি এককভাবে মোট ১০৯ জন অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে ৭৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ২৬টি মামলা বিচারাধীন আছে।

আইজিপি বলেন, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা আসে হকার, ফেরিওয়ালা, অচেনা সহযাত্রী বা হঠাত্ করে বন্ধু বেশে। অস্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ দোকানের উন্মুক্ত খাবার, ডাবের পানি, জুস, চা, কফি, পান, খেজুর, ঝালমুড়ি, শক্তিবর্ধক হালুয়া, ক্রিম জাতীয় বিস্কুট, চকলেট, নানা ধরনের পানীয়তে মেশায় নেশা। মানুষকে অজ্ঞান করে অর্থ সম্পদ লুটে নেয়। এমনকি মৃত্যুও ঘটায়। তাই এ ধরনের অস্থায়ী দোকানের উন্মুক্ত খাবার ত্যাগ করে স্থায়ী দোকানের খাবার গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ এবং পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

আইজিপি আরও বলেন, এ দেশের সাধারণ যাত্রী এবং হাটবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির চিহ্নিত সদস্যদেরকে নিরীক্ষণ করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রত্যেক ইউনিটে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টি সংক্রান্ত সংরক্ষিত তথ্যাদি পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সকল পুলিশ অফিসারকে নির্দেশ দেন।

সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ডিএমপি ইতোমধ্যেই ১০ হাজার লিফলেট ছেপেছে। প্রত্যেক বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশনে সেগুলো সেঁটে দেয়া হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন, বীরবিক্রম, অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ এস এম মাহ্ফুজুল হক নূরুজ্জামান,ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মারুফ হাসান ও বাংলাদেশ  সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার  এনায়েত উল্যাহসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতা।

সভায় বক্তারা বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকেটের অপর পৃষ্ঠায় অজ্ঞান পার্টির তত্পরতা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ করার আহ্বান জানান। এছাড়া যানবাহনের কাউন্টারে, টার্মিনালে এমনকি যানবাহনের ভেতরে যাত্রীদের ঝুঁকি ও সতর্কতামূলক বার্তা স্থায়ীভাবে প্রদর্শনেরও সুপারিশ করেন। যানবাহনগুলোতে কোন হকার না ওঠানো এবং টার্মিনালগুলোতে মালিক-শ্রমিকদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ খাবার পানির দোকান চিহ্নিত করারও প্রস্তাব করা হয়। এক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন