পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসাবে জাতিসংঘ এবং সার্ক থেকে সদস্য পদ বাতিল ও বহিষ্কারের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, সার্ক থেকে পাকিস্তানের সদস্যপদ বাতিল এবং একইসাথে জাতিসংঘ থেকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসাবে পাকিস্তানকে বহিষ্কারের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। একই সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক থাকবে না এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র-শিক্ষক-প্রশাসনিক কর্মকর্তা পাকিস্তানে যাবে না বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘যুদ্ধাপরাধী মুক্ত বাংলাদেশ চাই’ শোভাযাত্রা পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এর আগে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বেলুন উড়িয়ে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দের সমন্বয়ে এ বর্ণাঢ্য ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সমাবেশ স্থলে ভিসি উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন।

শোভাযাত্রায় প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: কামাল উদ্দীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে স্বাধীনতা চত্বরে সংগীত বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তির গান ও বিজয়ের গান।  

এ সময় অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এবং বিজয় অর্জিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে পাকিস্তানিরা বিভিন্ন ধরনের অন্যায়-অত্যাচারে লিপ্ত ছিল ও ঠাণ্ডা মাথায় অত্যন্ত নির্মমভাবে বুদ্ধিজীবীসহ অনেক সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বিশ্ব সভ্যতার বিরুদ্ধে অপরাধ। আজ তারা নির্লজ্জ মিথ্যাচার করছে। অথচ পাকিস্তান কর্তৃক গঠিত হামুদুর রহমান কমিশনেই গণহত্যার দালিলিক তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

ভিসি আরও বলেন, এহেন বিবৃতি একটি দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ। এরপর পাকিস্তানিদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখার কোন সুযোগ নেই। তাই অবিলম্বে পাকিস্তানের সাথে সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হোক। সার্ক থেকে পাকিস্তানের সদস্যপদ বাতিল করা হোক। মানবাধিকারের প্রবক্তা জাতিসংঘ থেকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র পাকিস্তানকে বহিষ্কারের সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এই দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, ছাত্রদের, বাংলাদেশের সকল জনগণের।

এদিকে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের লাল সবুজের পতাকার চেতনাকে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পতাকা নিয়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। গতকাল সকাল ১০টায় শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এই শোভাযাত্রা বের হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের গিয়ে শেষ হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সচিব নাছিমা বেগম, শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

এসময় শিশুদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, একাত্তরে নয় মাস যুদ্ধ করে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। এ রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা আনন্দের কিন্তু তা ধরে রাখা কষ্টের। কারণ ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী রাজাকররা-আলবদররা আমাদের জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, এই রাজাকার-আলবদরদের বিচারের মাধ্যমে সরকার শিশুদের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে চাই। শিশুদের মানুষের মতো করে গড়ে তুলতে চাই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন