শিক্ষায় সহযোগিতা ও সচেতনতা বাল্য বিবাহ বন্ধে সহায়ক
‘বালিকা: ব্যস্ত এখন নিজেকে গড়ায়’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৩ মার্চ, ২০১৬ ইং
শিক্ষায় সহযোগিতা ও সচেতনতা বাল্য বিবাহ বন্ধে সহায়ক
বাল্য বিবাহের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষায় সহযোগিতা, লিঙ্গভিত্তিক অধিকার সচেতনতা এবং জীবনমুখী দক্ষতা বাল্য বিবাহ বন্ধে বিশেষ সহায়ক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বালিকা: ব্যস্ত এখন নিজেকে গড়ায়’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পপুলেশন কাউন্সিলের ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর লাইফ স্কিলস, ইনকাম অ্যান্ড নলেজ ফর অ্যাডোলেসসেন্ট গার্লস জেনারেটিং অ্যাভিডেন্স টু ডিলে ম্যারেজ’ প্রকল্পে ঐ গবেষণা করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঐ গবেষণা করা হয়। নেদারল্যান্ড দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় ঐ প্রকল্প পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। গবেষণা ফলাফলের উপর আলোচনা করেন পপুলেশন কাউন্সিলের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এবং বালিকা প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক ড. সাজেদা আমিন। সেন্টার ফল জেন্ডার অ্যান্ড সোশ্যাল ট্রান্সফরমেশন সমন্বয়কারী সিমেন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেইগবেদার, ঢাকাস্থ দ্য অ্যাম্বাসি অব দ্য কিংডম নেদারল্যান্ডের ডেপুটি হেড অব মিশন মার্টিন ভ্যান হুগস্ট্রেটিন এবং বালিকা প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী বালিকা ও তাদের অভিভাবকগণ।

গবেষণায় বালিকা প্রকল্পের ৭২টি কমিউনিটির ৯ হাজারের বেশি মেয়ে অংশগ্রহণ করে। তিনটি দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রমের মধ্যে তারা গণিত ও ইংরেজি বিষয় পড়ার মাধ্যমে শিক্ষা বিষয়ক সহযোগিতা লাভ করে জেন্ডার বিষয়ক আলাপ-আলোচনা, কোনো কিছু গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জীবনদক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ লাভ করে।

গবেষণায় বলা হয়, দেশে বাল্য বিবাহ বন্ধে শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের সোচ্চার হতে হবে। বর্তমানে ৩ জন মেয়ের মধ্যে দুই জনের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। সমাজ থেকে বাল্য বিবাহের হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘বালিকা’ প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পে সারা দেশে ৯ হাজারেরও বেশি মেয়ে বাল্য বিবাহ রোধসহ মেয়েদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ প্রকল্প থেকে মেয়েরা নিজেদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ক্ষমতা বৃদ্ধির জীবন দক্ষতাসহ উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। গবেষণায় বলা হয়, বাল্য বিবাহ রোধসহ মেয়েরা মোবাইল ফোন রিপেয়ার করাসহ ছবি তোলা, প্রাথমিক চিকিত্সার জীবনমুখী প্রশিক্ষণও গ্রহণ করছেন। প্রকল্প এলাকা নড়াইল, সাতক্ষীরা ও খুলনায় ২৫ ভাগ বাল্য বিবাহ কমেছে বলে গবেষণায় দাবি করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন যতটুকু না বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বিদেশি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত ক্রিমিনাল প্রোগ্রাম, ধর্ষণ ও খুনের সিরিয়ালগুলো দেখে শিশুরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। অপরাধীরা তত্পর হয়ে উঠছে, নানা নির্যাতনের কৌশল শিখে নিচ্ছে। মেয়েদের বিয়ে ১৮ বছরের নিচে নয়- সাফ জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ও ছেলেদের ২১ বছরই থাকছে। এখানে কোনো হেরফের হচ্ছে না। কিছু উদ্বেগজনক জায়গায় পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। বাল্য বিবাহ রোধে সমাজের প্রতিটি মানুষ সোচ্চার হবে- এমনটা আশা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বাল্য বিবাহের একটি মূল কারণ। একই সঙ্গে সচেতনতার ও শিক্ষার অভাবে বাল্য বিবাহ যথাযথভাবে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার বাল্য বিবাহ রোধে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩ মার্চ, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১২:১১
আসর৪:২৪
মাগরিব৬:০৫
এশা৭:১৮
সূর্যোদয় - ৬:১৯সূর্যাস্ত - ০৬:০০
পড়ুন