শিশু-বাজেটে আরো মন্ত্রণালয় যুক্ত করার দাবি
শিশু অধিকার ফোরামের আলোচনা সভা
g ইত্তেফাক রিপোর্ট১৩ জুন, ২০১৬ ইং
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে সাড়ে ৩৪ লাখ কর্মজীবী শিশু রয়েছে। যার মধ্যে ২৯ লাখ ৪৮ হাজার পূর্ণকালীন ও ৫ লাখ ২ হাজার খণ্ডকালীন কাজ করে। এই কর্মজীবী শিশুদের দুই তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না। আগে বিদ্যালয়ে গেলেও এখন যায় না এমন শিশুর সংখ্যা ২১ লাখ। এই অবস্থায় শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৬ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা এগিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, সরকার নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। সরকারের ভাষ্যমতে, ২০২১ সালের পর দেশে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থাকবে না সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হলে শিশু-বাজেটে আরও মন্ত্রণালয় যুক্ত করে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান তারা।

গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ দাবি করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধূরী। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশুশ্রম নিরসন প্রোগ্রাম কনসোর্টিয়াম লিডার ইফতেখার আহমেদ খান। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের ডিরেক্টর আব্দুস সহিদ মাহমুদ। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০২-২০০৩ সালের অনুসারে শিশুশ্রমের সংখ্যা ছিল ৭৯ লাখ যেখানে ছিল ৫-১৭ বছর বয়সি শিশু শ্রমিক, তাছাড়া উইকিপিডিয়া চাইল্ড লেবার ইন বাংলাদেশ অনুসারে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ৪৭ লাখ, যেখানে ১২.৬ শতাংশ  শিশু (যাদের বয়স ৫-১৪) কোনো না কোনো শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। মূল প্রবন্ধে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের সামগ্রিক কর্ম পরিধির ১৬.৬ শতাংশ শিশু শ্রমের দ্বারা অর্জিত হচ্ছে। কোনো কোনো সমীক্ষায় দেখা যায় ৬২ শতাংশ শিশুশ্রম গ্রামীণ কৃষিতে প্রয়োগ হচ্ছে, ১ লাখ ৪৯ হাজার শিশু শ্রমিক নিকৃষ্ট ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে, ১.৪ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে গ্রামীণ কৃষিখাতে বিরাট সংখ্যক শিশুশ্রমিক বিনা বেতনে কাজ করে থাকে। গ্রাম এবং শহর উভয়স্থানে ২৪.৬ শতাংশ শিশু দিন-মজুর, ১৪ শতাংশ বিক্রয় কর্মী এবং ২৫.৪ শতাংশ পরিবহন খাতে নিয়োজিত রয়েছে।

 মো. এমরানুল হক চৌধূরী বলেন, সরকার শিশুশ্রম বিষয়ক কয়েকটি আইন ও বিধিমালা করেছে। উল্লিখিত আইন ও বিধিমালা ছাড়াও বাংলাদেশে শিশুশ্রম বিষয়ে আরো অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিমালা বলবত্ রয়েছে। সবকিছুর আলোকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে কাজ করতে হবে। আব্দুস সহিদ মাহমুদ, ৭টি মন্ত্রণালয়ে শিশু বাজেট ঘোষিত হয়েছে, আমরা জানি ২৩টি মন্ত্রণালয় শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের সাথে যুক্ত। কিন্তু ১৬টি মন্ত্রণালয় বাদ পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ৩৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় গৃহশ্রমকেও অন্তর্ভুক্ত করার আহবান করেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন