ওসমানী উদ্যান মাদকসেবীদের আখড়া
বারেক কায়সার১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
ওসমানী উদ্যান মাদকসেবীদের আখড়া
রাজধানীর ওসমানী উদ্যান। এটি এখন মাদকসেবীদের আখড়া। সন্ধ্যা নামলেই অপরাধীদের আনাগোনা চোখে পড়ে। পার্কের ভিতরে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান আর বসতি। সামনের দিকে একটু কম হলেও ভিতরে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। অরক্ষিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর নামের ভাস্কর্য। পার্কটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এই বিষয়ে উদাসীন।

জানা যায়, ওসমানী উদ্যানের আয়তন প্রায় ২৪ একর। সম্রাট আওরঙ্গজেবের প্রধান সেনাপতি মীর জুমলার কামানটি ওসমানী উদ্যানের শোভা বর্ধন করছে। কামানটি মীর জুমলা আসাম যুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন। এই পার্কে নানা জাতের বৃক্ষ চোখে পড়ে। এর মধ্যে কড়ই, আমলকি, তেতুল, বট, অর্জুন, মেহগনি অন্যতম। এছাড়া রয়েছে বড়ই, আম, কাঁঠাল, কলা এবং নিম গাছ। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ, পাতাবাহারি গাছ এবং লতা গুল্ম। অন্যদিকে উদ্যানের লেকের পাশেই রয়েছে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ২টি বালু দ্বীপ। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যানের ভিতরে নির্মাণ করা হয়েছে ১১টি স্মৃতিস্তম্ভ। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টরের কথা উঠে এসেছে এতে। রাজধানীতে সচিবালয়, দক্ষিণ সিটির নগর ভবন ও পুলিশ সদর দপ্তর ঘিরে রয়েছে উদ্যানটিকে। 

২০১২ সালে ওসমানী উদ্যানে ‘১৯৭১: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টর’ শিরোনামে ১১টি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়। এসব স্মৃতিস্তম্ভে ১১টি সেক্টরের অঞ্চলসীমা, কমান্ডারদের নাম, অর্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। এসব ঘিরে রয়েছে বসার স্থান। তবে প্রতিদিন সেই বসার স্থান দখল করে থাকে মাদকসেবী, পকেটমার, অপরাধী আর ভবঘুরেরা।

সরেজমিন দেখা যায়, স্মৃতিস্তম্ভ আশ্রয় করে সারাদিনই মাদকসেবীরা মাদক গ্রহণ করে। উদ্যানের বাতাসে সবুজ পাতার গন্ধ নেই, রয়েছে গাঁজার গন্ধ। শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ, সব বয়সের মাদকসেবীরা প্রকাশ্যেই গ্রহণ করছেন মাদক। মাদক বিক্রিও চলছে অহরহ। উদ্যানের স্মৃতিস্তম্ভ ও বৃক্ষের যত্ন নেই, আছে ছিন্নমূল আর ভবঘুরদের কোলাহল। পুরো এলাকাতেই পড়ে রয়েছে পলিথিন, কাগজ ও কাপড়ের আবর্জনা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, হাঁস, মুরগি, ছাগল ও মাছ বিক্রেতা এবং হকার, মাদক ব্যবসায়ী, নেশাখোর, পতিতা ও ছিনতাইকারীদের দাপট চলছে ওসমানী উদ্যানে। বিশ্বের ‘দ্বিতীয় নিকৃষ্টতম’ নগর ঢাকার নিকৃষ্টতার প্রতীক যেন উদ্যানটি। অথচ ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে এ উদ্যানের সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া নাগরিকদের বিশুদ্ধ অক্সিজেন সরবরাহ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের সঙ্গেও এটির সম্পর্ক রয়েছে। তবে উদ্যানটি রক্ষা করতে পুরো ব্যর্থ হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

বাপার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন বলেন, ওসমানী উদ্যান পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে—রাজনৈতিক ক্ষমতাপুষ্ট কিছু ব্যক্তি উদ্যানে রীতিমতো ব্যবসার জাল বুনেছেন। সেখানে কেউ করছেন হাঁস-মুরগির ব্যবসা। আবার কেউ করছেন ছাগলের ব্যবসা। আখ ও আখের রস ব্যবসা বসিয়েছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। অথচ বিদ্যমান আইনে উদ্যানে কোনো ধরনের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। এমনকি কাউকে লিজ দেওয়ারও নিয়ম নেই। উদ্যানের ভিতরের পুকুরটি ছাত্রলীগের একজন নেতা লিজ নিয়েছেন। মাদক ও পতিতা ব্যবসা তো বেশ জমজমাট সেখানে।

শাহবাগ থানা পুলিশ বলছে, উদ্যান এলাকায় সন্ধ্যার পর জনচলাচল কম থাকে। আর মাদকসেবী ও অন্যান্য ছিচকে অপরাধীদের আনাগোনার কারণে সাধারণ জনগণ এলাকাটি এড়িয়ে চলে। সিটি করপোরেশন ও পুলিশের নিরাপত্তা টহলও পর্যাপ্ত নয়।

করপোরেশন বলছে, ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী তিন বেলায় পালা করে উদ্যানে টহলের দায়িত্ব পালন করেন। তবে উদ্যানে প্রাতঃ কিংবা নৈশ ভ্রমণকারীরা জানান, এ নিরাপত্তা কর্মীরা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন না। বরং অপরাধী ও মাদকসেবীদের কাছ থেকে চাঁদা নেন।

ওসমানী উদ্যান রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দক্ষিণ সিটির সম্পত্তি বিভাগের। সংস্থার প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা খালিদ আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উচ্ছেদ করে। তবে দিন ঘুরতেই আগের অবস্থায় চলে আসে। উদ্যানে মাদকসেবী, হকারদের উচ্ছেদ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন