হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপন
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উদযাপন
হুমায়ূন আহমেদ নেই কিন্তু মানুষের হূদয়ে তিনি বেঁচে আছেন - সে কথার প্রমাণ মিলল গতকাল তাঁর জন্মদিনে মানুষের ভালোবাসার প্রকাশ দেখে। নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবরে দলে দলে মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মোনাজাত করেছেন। এছাড়া রাজধানীর সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের খোলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের একক বইমেলা। চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ছিল মুখরিত হিমু মেলার আয়োজন। গাজীপুরের পিরুজালির নুহাশপল্লীতেও ছিল নানা আয়োজন। জননন্দিত এ কথাশিল্পীর পিত্রালয় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর ও হুমায়ূন আহমেদের জন্মস্থান মোহনগঞ্জেও ছিল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এসব আয়োজনে সকাল থেকে রাত অবধি ছিল ভক্তদের পদচারণা।

নুহাশপল্লীতে মানুষের ঢল : গাজীপুরের পিরুজালী গ্রামের নুহাশপল্লীতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। গাজীপুর প্রতিনিধি মো. মুজিবুর রহমান জানান, সকাল থেকেই সেখানে ছিল মানুষের ঢল। এর আগে শনিবার রাতে নুহাশপল্লীতে জ্বালান হয় মোমবাতি। গতকাল সকালে হুমায়ূন আহমেদের ছেলে নিশিত ও নিনিত এবং স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মোনাজাত শেষে নুহাশপল্লীতে স্থাপিত হুমায়ূনের ম্যুরালের সামনে আপেল তলায় কেক কাটেন তার দুই ছেলে। এ সময় শতাধিক ভক্ত, গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে হুমায়ূন আহমেদের ভাই ড. জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সকালে কবর জিয়ারত করেন।

এ সময় ড. জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিগুলো এখন দেশের বাইরেও ভিন্ন ভাষায় প্রচার হচ্ছে। এটা ভালো যে, মানুষ তাকে আরো ভালোভাবে এবং বেশি জানতে পারছে। মেহের আফরোজ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে প্রকৃতভাবে জানতে হলে তার একটা, দুইটা বই পড়লে হবে না। তার সব বই পড়তে হবে। কারণ তার দর্শনের সংমিশ্রণগুলো একটি বইতে পাওয়া যাবে না।

হুমায়ূন বইমেলা : হুমায়ূন আহমেদের ১৭টি প্রকাশনা সংস্থার আয়োজনে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরিতে আয়োজন করেছে সাতদিনব্যাপী হুমায়ূন বইমেলা। মেলা উদ্বোধন করেন প্রফেসর ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, হুমায়ূন আহমেদের ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার। এসময় বক্তব্য রাখেন লেখক-পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। এছাড়া উদ্বোধনী পর্বে চারটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এগুলো হলো অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘ হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলীর নবম ও দশম খণ্ড’। আর কাকলী প্রকাশনীর ‘হুমায়ূন আহমেদের কথামালা’ এবং মেহের আফরোজ শাওন রচিত ‘হুমায়ূন সংগীত: নদীর নামটি ময়ূরাক্ষী’।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, হুমায়ূন পাঠক সৃষ্টি করেছেন, প্রকাশকদের সবসময় বড় ধরনের সমর্থন দিয়েছেন।

সেলিনা হোসেন বলেন, তিনি ছিলেন বহুমাত্রিক সৃজনশীল মানুষ। তিনি সৃজনশীলতার প্রকাশের চাইতে চারপাশের মানুষের জীবনকে নন্দিত করতে চেয়েছেন। মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। এইরকম ভিন্নমাত্রার মানুষকে আবিষ্কারের চেষ্টা যে কোনো মানুষ তার জীবনে নতুন মাত্রায় উন্নীত করবে।

মেহের আফরোজ শাওন হুমায়ূন আহমেদের রচনাবলীর সম্পাদক সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীকে হুমায়ূন আহমেদের জীবনী রচনার অনুরোধ জানান। আর আহসান হাবীব প্রকাশকদের হুমায়ূন আহমেদের বই নির্ভুলভাবে প্রকাশের অনুরোধ জানান।

হিমু মেলা : হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় ‘৫ম হিমু মেলা’। গতকাল দুপুরে হিমুপ্রেমীরা হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্য মেহের আফরোজ শাওন অন্যপ্রকাশের স্বত্ত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম, প্রকাশক ফরিদ আহমেদ, মনিরুল হক, হিমু পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনের হুমায়ূন ভক্ত বিশিষ্টজনরা। এ সময়  উন্মুক্ত মঞ্চে পরিবেশিত হয় হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্রের গান ও নাটকের গান। গানগুলো গেয়েছেন মো. খুরশীদ আলম, সেলিম চৌধুরী, শাহনাজ বেলী, এস আই টুটুল, সেরাকণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা। হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে স্মৃতিকথা বলেছেন ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক জহির উদ্দিন মাহমুদ মামুনসহ মেলায় আগত বিশিষ্টজনরা। নৃত্য পরিবেশন করেছে ক্যামব্রিয়ান স্কুলের শিক্ষার্থীরা। মেলায় ছিল হুমায়ূন আহমেদের বই, চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডির স্টলসহ নানান পণ্যসামগ্রীর স্টল। এর আগে, ১২ নভেম্বর রাত ১২টা এক মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন পরিবারের সদস্যরা। টরেন্টোতে চলছে হুমায়ূন আহমেদের একক বই মেলা।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন