‘কাউকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়’
০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
বিইউপির গোলটেবিল আলোচনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-৫ নারী-পুরুষ সমতা অর্জন সরকারের একার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের চেয়ারম্যান ড.খলীকুজ্জমান আহমদ। তিনি বলেন, দারিদ্র্য, ক্ষুধা নিবারণ ও বৈষম্য দূরীকরণ করা গেলে নারী-পুরুষের সমতা সৃষ্টি হবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-৫ এর আওতায় ‘নারী-পুরুষ সমতা অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থা ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিইউপি) এই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে। 

বিইউপি এর চেয়ারম্যান এমএ জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন বোর্ড মেম্বার অধ্যাপক হান্নানা বেগম, বিশেষ আলোচক ছিলেন, বিআইডিএস-এর প্রাক্তন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. প্রতিমা পাল মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিইউপি-এর নির্বাহী পরিচালক নিলুফার বানু।

ড. খলীকুজ্জমান আহমদ আরো বলেন, টেকসই উন্নয়ন কাউকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও সমতার লক্ষ্য আছে, প্রধানমন্ত্রীর ভিষণ ২০২১-এর নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতার কথা আছে। এর জন্য নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে এখনও কৃষি, দলিত নারীর অধিকার নাই। তিনি বলেন, এমডিজিতে সমতার কোনো বিষয় ছিল না। এসডিজিতে আছে এর মূল কথা মানবতা। এই মানবতা প্রতিষ্ঠা করলেই সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্য শুধু আমাদের দেশেই নয় উন্নত বিশ্বেও বিরাজমান। বিশ্বের এক শতাংশ ধনী আর ৯৯ শতাংশ দরিদ্র এই বৈষম্যের জন্য নানামুখী সমস্যা দেখা যায়। তিনি নারী পুরুষের বৈষম্য, শহর-গ্রামের বৈষম্য, ধনী দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 প্রতিমা পাল মজুমদার বলেন, নানা গবেষণায় দেখা যায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে নিম্নে রেখে সম্পূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, নারীর বড় বৈষম্য সম্পদে প্রবেশগম্যতার অভাব। আমাদের নারী উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়ন এবং আরো যে আইনগুলো আছে তা বাস্তবায়ন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হলে দেশের উন্নয়ন হয়।

মূল প্রবন্ধে এসডিজির লক্ষ্য ও জেন্ডার সমতা অর্জনে লক্ষ্যমাত্রাসমূহ এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের নীতি, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা, বর্তমান কার্যক্রম মন্ত্রণালয় এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করণীয় বিষয় তুলে ধরেন অধ্যাপক হান্নানা বেগম। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবসম্পদ প্রতিবেদনে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিস্ট ফোরামসহ বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সামাজিক অর্থনৈতিক সূচকে এগিয়ে চলছে। আমরা জানি নারী এগিয়ে গেলে সমাজ দেশ এগিয়ে যায়। তারপরও নারীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৬-এর খসড়ায় বিশেষ বিধানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮’র নীচে রাখার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের বিপরীতে কাজ করছে নানা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জসমূহ হচ্ছে নারী উন্নয়নের পথে পাহাড় প্রমাণ প্রতিবন্ধকতা। মুক্ত আলোচনায় নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিশেষ বিধান নারীর ক্ষমতায়নে বড় বাধা। তা তুলে নিতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন