পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদে অভিযান শুরু ১ মার্চ
বারেক কায়সার১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
অবশেষে সরছে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন। আগামী ১ মার্চ থেকে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে। ইতোমধ্যে আরমানিটোলা, বাবুবাজার, মিটফোর্ডসহ পুরো পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউনের জরিপ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেমিক্যালের গোডাউন পুরান ঢাকা থেকে সরানো হবে। আগামী ১ মার্চ থেকে সব গোডাউন সরাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওইদিন থেকে র্যাব ও পুলিশের সহায়তা নিয়ে সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযানে নামবেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের উপ-পরিচালক দেবাশিষ বর্ধন বলেন, আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের জরিপ শুরু করা হয়েছে। গোডাউনে কী ধরনের কেমিক্যাল রয়েছে সেটার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসা বাড়ির নীচতলায় কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এসবের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) তথ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকায় প্রায় ২৫ হাজার কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার আবাসিক বাড়িতেও রয়েছে। দক্ষিণ সিটির রাজস্ব বিভাগের ট্রেড লাইসেন্স শাখার তথ্যানুযায়ী, পুরান ঢাকা এলাকায় মাত্র আড়াই হাজার গোডাউনের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

এসব হিসেব মতে, পুরান ঢাকার ২২ হাজারের বেশি গোডাউন অবৈধ। বাপার তথ্য অনুযায়ী, ২০০ ধরনের ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল নিয়ে ব্যবসা চলছে পুরান ঢাকায়। অবশ্য নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডের পর ২০টি ক্ষতিকর কেমিক্যালের তালিকা করা হয়। বাকি ১৮০ ধরনের ক্ষতিকর কেমিক্যাল সরকারের তালিকাতেই আসেনি।

এদিকে দক্ষিণ সিটির উদ্যোগ প্রসঙ্গে বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু বলেন, আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেওয়ার দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা দেখেছি কেমিক্যালের বেশ কয়েকটি গোডাউন সিলগালা হয়েছে। তবে সময় যত গড়িয়েছে অভিযানও তত ঝিমিয়ে পড়েছে। এই চ্যালেঞ্জ সফল করতে বহু রকমের চাপ থাকবে। তবে আমরা চাই এই উদ্যোগ সফল হোক। এই কাজে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো পাশে থাকবে-এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

পুরান ঢাকার বাসিন্দারা বলছেন, সরকার বেশ কয়েকবার কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। কেননা, সরকারের একটি মহলকে ম্যানেজ করেই ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছে। নিমতলীর স্থায়ী বাসিন্দা জাফর ইমাম বলেন, গুটিকয়েক মানুষের হাতে আমরা জিম্মি হয়ে আছি। সব সময়ই মনে হয় আমরা বোমার ওপর আছি। যে কোনো সময় বোমা ফুটতে পারে। আর আমরা মারা পড়ব। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কতগুলো মানুষ মারা গেল। তবুও কারো টনক নড়ল না।

আগা সাদেক রোডের বাসিন্দা শরিফুল আনোয়ার বলেন, লাইসেন্স না থাকলেও কেমিক্যাল গোডাউনের মালিকরা ব্যবসা করছে। যে আতঙ্ক নিয়ে আমরা দিন কাটাই তার থেকে আমরা মুক্তি চাই। মেয়র সাহেব আমাদের সেই আতঙ্ক থেকে মুক্তি দেবেন সেই আশাই করছি। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সব ধরনের সহায়তাও করবে।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নোটিস পাঠানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, সিটি করপোরেশন প্রায়ই সরকারের নির্দেশে ক্ষতিকর কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদ করে। উচ্ছেদের আগে গোডাউন মালিকদের কাছে নোটিস পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন