আগের চেয়ে বেশি দরে তেল আমদানি করবে বিপিসি
২২ মে, ২০১৭ ইং
g মাহবুব রনি 

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ্বে (জুন-ডিসেম্বর) ১০ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ১১টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি ইতিমধ্যে তেল রপ্তানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু সবগুলো কোম্পানিই বর্তমান প্রিমিয়াম মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য চেয়ে দরপত্র জমা দিয়েছে। ফলে এ বছরের শেষভাগে বিদ্যমান দরের চেয়ে বেশি দরে তেল আমদানি করতে হবে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিপিসিকে।

বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশের বার্ষিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৫৫ লাখ টন। এর মধ্যে দেশের গ্যাসকূপ থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের সহজাত পেট্রোলিয়াম থেকে পেট্রোল ও অকটেন উত্পাদন করা হয়। কিন্তু মোট জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ তথা ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন আমদানি করতে হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়েছিল। আর গত বছর এ আমদানির পরিমাণ ৫৫ লাখ টন ছাড়িয়েছিল।

বর্তমানে এ জ্বালানি তেল দুইটি প্রক্রিয়ায় আমদানি করা হয়। এর মধ্যে মোট জ্বালানি তেলের অর্ধেক আমদানি করা হয় জিটুজি ভিত্তিতে। আর বাকি অর্ধেক তেল আমদানি করা হয় উন্মুক্ত দরপত্রের  মাধ্যমে। বর্তমানে সৌদি আরব ও আবুধাবি থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। আর পরিশোধিত তেল সরবরাহ করছে বিভিন্ন দেশের ১৩টি কোম্পানি। চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ্বে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ১০ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করার পরিকল্পনা করেছে বিপিসি। এর মধ্যে আট লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল, এক লাখ টন জেট ফুয়েল এবং এক লাখ টন ফার্নেস তেল।

বিপিসি’র ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ওই তেল আমদানিতে গত ১৬ মে দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ পর্যন্ত ১১টি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করে দরপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে চীনের সিনপেকের বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক, নেদারল্যান্ডের ভিটোল, সিঙ্গাপুরের বহুজাতিক কোম্পানি ট্রাফিগুরা ও সুইজারল্যান্ডের গ্লেনকোর উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে জেট ফুয়েল ও গ্যাস অয়েলের জন্য সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব করেছে ইউনিপেক। আর ফুয়েল অয়েলের জন্য সবচেয়ে কম দর প্রস্তাব করেছে ভিটোল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও প্ল্যানিং) এসএম মোজাম্মেল হক বলেন, ১১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করেই চুক্তি করা হবে।

জানা যায়, ইউনিপেক প্রতি ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে প্রিমিয়াম হিসেবে দুই দশমিক ২৭ থেকে দুই দশমিক ৪৭ ডলার প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেলের বিপরীতে প্রিমিয়াম দেওয়া হচ্ছে দুই দশমিক ২০ ডলার। এক্ষেত্রে অন্য কোম্পানিগুলো দুই দশমিক ৪৭ থেকে চার দশমিক ৬৫ ডলার পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়েছে। আর জেট ফুয়েলের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২৯ দশমিক ৭৩ ডলার প্রস্তাব করেছে ভিটোল। বর্তমানে এ সংস্থার কাছ থেকে ১৫ দশমিক ৮০ ডলার দরে জ্বালানি তেল কেনার চুক্তি রয়েছে বিপিসির। এছাড়া এ ধরনের জ্বালানি তেলের জন্য অন্য কোম্পানিগুলো ৪১ দশমিক ২২ থেকে ৬৭ দশমিক ৮০ ডলার পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাত্ ডিজেল, ফার্নেস ও কেরোসিন রপ্তানিতে ইউনিপেকের এবং জেট ফুয়েল আমদানিতে দেওয়া ভিটোলের দরপ্রস্তাবও বিদ্যমান দরের চেয়ে বেশি। সব মিলিয়ে দরদাতা যে কোম্পানির কাছ থেকেই তেল কেনা হোক না কেন তা আগের চেয়ে বেশি দামেই কিনতে হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ মে, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন