জলাবদ্ধতা নিরসনে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
বাপার সংবাদ সন্মেলনে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘জলজট ও প্রতিকারের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ও জল নিষ্কাশন মহা-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রাজধানীর মধ্যদিয়ে প্রবাহমান খালগুলো উদ্ধার, ওয়াসার ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে সিটি করপোরেশনের কাছে দ্রুত হস্তান্তর, রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ নানা দাবি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর উদ্যোগে গতকাল বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন বক্তারা এসব দাবি তুলে ধরেন। মূল বক্তব্যে স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, চারদিকে নদীবেষ্টিত মহানগরী ঢাকার সমস্ত দেহজুড়ে ছড়িয়ে থাকা খাল-লেক আর জলাশয়গুলো দ্রুত বর্ধিষ্ণু শহরটিকে নিষ্কাশিত করছিল দীর্ঘদিন ধরে, বিকশিত করছিল এর জনজীবনকে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত নগরায়ন, অতিরিক্ত জনগোষ্ঠীর চাপ, আর অতি মুনাফালোভী ভূমি দুর্বৃত্তদের প্রবল পরাক্রমের কাছে হারিয়ে গেছে এর অনেকটাই। এর সাথে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত ব্যবস্থা আর উন্নয়নের নামে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ‘উন্নয়ন স্ট্র্যাটেজি’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। ফলে খাল হয়েছে কালভার্ট, লেক হয়েছে বসতি, গাছ হয়েছে জ্বালানি। আজ তাই প্রতি বর্ষায় নগরবাসীর নাকাল অবস্থা। জলজটে শহরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙেচুরে হয়েছে একাকার আর সেই সাথে পূতিময় দুর্গন্ধযুক্ত পয়ঃমিশ্রিত জল উঠে আসছে রাস্তা ঘাটে, যখন তখন এক পশলা বৃষ্টিতেই। এখন নগরীতে খাবারের পানিসহ সব জলাধার আর লেকের জলে দূষণের মাত্রা এখন তাই অসহনীয় পর্যায়ে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যেও তা হুমকিস্বরূপ।

তিনি বলেন, ডেভেলপারদের মধ্যকার বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব ও প্রতিপত্তি,  সরকারের কার্যকর, সমন্বিত, সার্বিকতা ও সময় নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণে অনীহা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসম্পৃক্ততার ও জবাবদিহিতার অভাব,  দখলকৃত এসব খাল, নদী-জলাশয় পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে কাঠামোগত ব্যর্থতা, সেই অর্থে দায়িত্বহীনতা, ইত্যাদি কার্যকারণের পাশাপাশি জনসচেতনতার অভাবও এর জন্যে দায়ী।

অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, এবারের ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগের ঘটনা সাধারণ জনগণসহ সকল মহলকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়েছে। মাত্র ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে যেভাবে ঢাকা মহানগরী ব্যাপক জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে, তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ১৯৬২ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান নিয়ে ৫ বার সমীক্ষা হয়েছে, অনেক পরিকল্পনা হয়েছে। তবে এসবের বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সামগ্রিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এজন্য মহানগরীর বৃষ্টির পানি দ্রুত সরে যেতে নদী পথ পর্যন্ত ড্রেনেজের পুরো চ্যানেল যাতে বাধামুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করা ও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ঢাকা মহানগরীর ৫০টি খালের মধ্যে প্রধান প্রধান খালগুলোকে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করতে হবে। ঢাকা ওয়াসা, দুই সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত ড্রেনেজ প্ল্যান প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের আহবান জানান তিনি।

ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, আমরা প্রায় দেড় যুগ ধরে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার কারণ এবং এর করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন সময় বলে আসলেও আজও কার্যকর কিছু হচ্ছে না। যার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে মহানগরবাসীদের ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা চাই, শুধুমাত্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেই তত্পরতা না বাড়িয়ে, এজন্য একটি কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান করা হোক। 

সংবাদ সম্মেলনে বাপা’র প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান, নির্বাহী সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপা’র যুগ্মসম্পাদক আলমগীর কবির ও হুমায়ন কবির সুমন উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন