রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় ঠেঙ্গারচরে
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
সংসদে ত্রাণমন্ত্রী

g বিশেষ প্রতিনিধি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবাইকে একখানে করে সন্দ্বীপের কাছে ঠেঙ্গারচরে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সরকার থেকে ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গা শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সরকার থেকে খাদ্য, চিকিত্সা ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সারা বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করে কূটনৈতিক তত্পরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। গতকাল রবিবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ছবিসহ তালিকা করা হবে। তালিকায় তাদের নাম, মিয়ানমারের যে এলাকা থেকে এসেছেন সেই স্থানের নাম, ছবি এবং সম্ভব হলে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংযুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ করা হবে। সঠিক হিসাব রাখতে রোহিঙ্গাদের তালিকা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ত্রাণমন্ত্রী যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, এটা নিয়ে কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবেন না। করে কোনো লাভ হবে না। সবার উচিত এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন, ইনশাল্লাহ এ সংকটও আমরা মোকাবিলা করতে পারব। মাত্র দু দিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে গত ২৫ আগস্ট সৃষ্ট ঘটনার পর গত ১৫-১৬ দিনে সে াতের মতো রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এসব শরণার্থী দেশটি থেকে এসেছে, তাদের করুণ অবস্থা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন জনগণের বন্ধু ছিলেন, তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাও জনগণের বন্ধু। এ কারণে মিয়ানমার থেকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, আমরাও যদি একই রকম আচরণ করতাম তখন কী হতো?

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাওয়া বা চিকিত্সার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো কৃপণতা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, দীর্ঘ ৪ মাস ধরে চলা ভয়াবহ বন্যা সরকার সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। বন্যাকবলিত একজন মানুষও না খেয়ে থাকেনি। আমরা বন্যাদুর্গত মানুষদের খাদ্যসহ পুনর্বাসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী সংসদকে জানান, ঢাকা মহানগরীতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা আবাসনসমূহের সুনির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। রাজউক ও ঢাকা সিটি করপোরেশন এই তালিকা প্রস্তুত করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে।

বাণিজ্য ও কূটনৈতিক তত্পরতা

একসঙ্গে চলবে : খাদ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি মিয়ানমার সফর নিয়ে জাসদের সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই মিয়ানমারে চাল কিনতে গিয়েছিলাম। একদিকে ট্রেড (বাণিজ্য) চলবে, অন্যদিকে কূটনৈতিক তত্পরতাও চলবে। আমরা এ নীতিতেই বিশ্বাসী। মিয়ানমার থেকে ৩ লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মিয়ানমার থেকে চাল আনা যায়, সে কারণেই এই চুক্তি করা হয়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন