বেদখল হয়ে যাচ্ছে পাহাড় নদী জলাশয় বনভূমি
সুশাসনের অভাব বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বিজিএমইএ ভবন সত্যিকার অর্থেই একটি বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এটিকে অপসারণ করা উচিত।

তিনি বলেন, বিজিএমইএ ভবনের মালিক যদি আমি বা আমার মতো সাধারণ মানুষ হতো, তবে কি তা এতদিন টিকে থাকত? এই অবৈধ ভবন শক্তিশালীদের। আর সে জন্যই তা এতদিন টিকে আছে। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিজিএমইএকে একটা ঝাঁকুনি দেওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশে তাদের এ ভবন ভাঙতেই হবে। নদী-জলাধার রক্ষা কর, কৃষিজমি-বন-পাহাড় বাঁচাও শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এর আয়োজন করে সাতটি বেসরকারি সংগঠনের জোট পানি অধিকার ফোরাম। এতে সহযোগিতা করে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)।

ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কার্যালয় সরাতে আপিল বিভাগ আরো সাত মাস সময় দেন। ৮ অক্টোবর দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালত সেদিন বলেন, এটিই শেষ সুযোগ।

এর আগে ২০১১ সালে হাইকোর্ট ওই ভবনকে হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যান্সারের মতো উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন বিজিএমইএর সভাপতি। এই লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ জুন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় দেন। এ বছরের মার্চ মাসে দেওয়া ছয় মাস সময় শেষ হয় গত ১২ সেপ্টেম্বর। এরপরই শেষ সুযোগ দেন আদালত।

আলোচনায় নদী-জলাভূমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এম শাহজাহান মণ্ডল বলেন, আমাদের বড় ধরনের সুশাসনের অভাব আছে। আর এ জন্যই নদী-ভূমি বেদখল হচ্ছে। পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। তিনি ঢাকার নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়গুলো উদ্ধার ও তা সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি দেশের বন, পাহাড় ও কৃষি জমি রক্ষার ও দাবি জানান।

বেসরকারি সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সভাপতিত্বে সভায় তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপোর) সাবেক মহাপরিচালক ম. ইনামুল হক, ভবদহ কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মোতালেব সরদার, বরিশালের রিচ টু আনরিচ সংগঠনের রফিকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাহির হোসেন প্রমুখ।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৫৮
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫১
সূর্যোদয় - ৫:৫৪সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পড়ুন