‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ পাচ্ছেন লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফী
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার’ পাচ্ছেন লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা, সৃজনশীল সাহিত্য ও সাহিত্য সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশের সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার-১৪২৪’ পাচ্ছেন বিশিষ্ট লেখক ও মুক্তিযোদ্ধা বেগম মুশতারী শফী। আগামী ২ ডিসেম্বর বিকালে চট্টগ্রামের টিআইসি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই প্রথম অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান রাজধানীর বাইরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন লেখক-সাংবাদিক আবুল মোমেন, বিশেষ অতিথি থাকবেন নারী নেত্রী লেখক অধ্যাপক মালেকা বেগম এবং মুখ্যবক্তা হিসেবে থাকবেন লেখক অধ্যাপক ফেরদৌস আরা আলীম। সভাপতিত্ব করবেন অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। 

শহীদ জায়া ও শহীদ ভগ্নি বেগম মুশতারী শফী বর্তমানে চট্টগ্রাম উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সম্পাদক, বেতার ব্যক্তিত্ব, উদ্যোক্তা, নারী নেত্রী, সমাজসংগঠক এবং সর্বোপরি সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। লিখেছেন উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি, কিশোর গল্পগ্রন্থ, স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ও মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক বই। সব মিলিয়ে তার বইয়ের সংখ্যা গোটা বিশেক। এর বাইরে প্রচুর লেখা রয়ে গেছে, যা এখনো গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়নি।

মুশতারী শফীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৫ জানুয়ারি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার স্বামী ডা. মোহাম্মদ শফি ও তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছোটভাই এহসান শহীদ হন। মুশতারী শফী ষাট দশকের শুরুতেই মফস্বল চট্টগ্রামে নারীদের সংগঠন ‘বান্ধবী সংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে প্রকাশ করেন নারীদের নিয়মিত পত্রিকা ‘বান্ধবী’, এমনকি চালু করেন নারী পরিচালিত ছাপাখানা, ‘মেয়েদের প্রেস’। মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’র সূত্রপাত হয়েছিল তার ঐতিহাসিক বাড়ি ‘মুশতারী লজ’ থেকেই। তিনি তার মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ— ‘স্বাধীনতা আমার রক্তঝরা দিন’। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরেকটি গবেষণাধর্মী বই— ‘মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী’। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়টায় তিনি কিছু ছোটগল্প লিখেছিলেন আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রের জন্য। সেগুলোও একপর্যায়ে ‘দুটি নারী ও একটি মুক্তিযুদ্ধ’ নামে বই-আকারে বেরোয়। এছাড়া ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ ও ‘একুশের গল্প’ নামে তার আরো দুটো ছোটগল্পের সংকলন রয়েছে। ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে একসময় ‘চিঠি, জাহানারা ইমামকে’ নামে দীর্ঘ একটি গ্রন্থও রচনা করেন। এছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতার ওপর লিখেছিলেন ‘আমি সুদূরের পিয়াসী’ আর বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির সঙ্গে স্মৃতি নিয়ে লিখেছেন ‘স্মৃতিতে অমলিন যারা’ গ্রন্থটি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন