কুড়িল-পূর্বাচল খাল দৃশ্যমান হচ্ছে
মোহাম্মদ আবু তালেব২০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
কুড়িল-পূর্বাচল খাল দৃশ্যমান হচ্ছে

ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে ১০০ ফুট প্রশস্ত কুড়িল-পূর্বাচল খাল। এই খাল নগরীর জলাবদ্বতা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা পোষণ করছেন অনেকেই। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বালু নদ পর্যন্ত পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের (৩০০ ফুট) দুই পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খননের কাজ চলছে। খালের পাশে চলছে ওয়ার্কওয়ে বা হাঁটার পথ নির্মাণের কাজ।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে খাল খনন ও পাড় বাঁধাইয়ের কাজ। নির্মাণ কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যেভাবে কাজ চলছে আশা করছি ২০১৮ সালের মধ্যেই এর কাজ শেষ হয়ে যাবে। এই খাল নগরীর জলাবদ্বতা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

নগরীর কাছাকাছি দূরত্বে একটু খোলামেলা পরিবেশে বেড়ানোর জন্য পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট) সড়কটি নগরবাসী, বিশেষ করে তরুণদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার যানজটমুক্ত চওড়া রাস্তা, দিগন্ত বিস্তৃত খোলা প্রান্তর, যুক্ত হচ্ছে ১০০ ফুট চওড়া খাল। সর্বোপরি বিনোদনপ্রেমীদের কাছে পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এদিকে বসুন্ধরা কনভেনশন সিটি থেকে ৩০০ ফুট সড়ক ধরে বালু নদ পর্যন্ত গিয়ে দেখা যায়, বা পাশের পুরো অংশে খাল খননের প্রাথমিক ধাপ শেষ হয়েছে। সার্ভিস রোড-সংলগ্ন এক পাশের পাড় বাঁধাই করা। অন্য পাড়েও মাটি ফেলে ওয়াকওয়ে বানানোর কাজ চলছে। এই অংশে অধিগ্রহণ করা জায়গার প্রায় পুরোটা এখন দখলমুক্ত।

আবার বালু নদ থেকে অন্য পাশের সড়ক ধরে আসতেও দেখা গেল একই দৃশ্য। জায়গায় জায়গায় খনন কাজে ব্যবহূত যন্ত্রপাতি, যানবাহনের সারি, তুলে আনা মাটির স্তূপ। আর খনন করা জায়গার কোথাও কোথাও পানি জমে এর মধ্যেই খালের আকার পেয়ে গেছে। তবে এই অংশে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে দু-একটি স্থাপনা এখনো সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

পূর্বাচলের বাসিন্দা সামসুল হক জানান, তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কাছে একটি রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন বিকালে শত শত ভ্রমণ প্রিয় মানুষ এখানে ভিড় জমায়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি একটি বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। কুড়িল-পূর্বাচল সড়কের দুই পাশে সৃষ্ট খাল এই এলাকার নান্দনিকতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘুরতে আসা সামিয়া ও সাকিল জানান, তারা উত্তরা  আবাসিক এলাকা  থেকে এখানে বেড়াতে এসেছেন। সময় পেলে প্রায়ই এখানে ছুটে আসেন। এখানকার পরিবেশ তাদের কাছে খুবই ভালো লাগে বলে জানান। একই অনুভূতি ব্যক্ত করেন শীলা জামান ও নুরুজ্জামান দম্পতি। তারা দুই সন্তান নিয়ে এখানে এসেছেন। ছেলে-মেয়ে ৩০০ ফুটের পাশে ১ নম্বর সেক্টরে ফাঁকা স্থানে খেলা করছে। শীলা জামান জানান, পুরান ঢাকার নারিন্দা তাদের বাসা। পূর্বাচলে ৩ কাঠার একটি প্লট পেয়েছেন ব্যবসায়ী কোটায়। তারা সময় পেলেই এখানে ঘুরতে আসেন।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, খালটির গভীরতা দাঁড়াবে ২৫ ফুট। তবে নিছক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নয়, বর্ষা মৌসুমে ঢাকার নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোয়ারসাহারা, ডিওএইচএস, সেনানিবাস, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কালাচাঁদপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্যই এ খাল কাটা হচ্ছে।

প্রকল্পে ১০০ ফুট খাল ছাড়াও প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক, ৩৯ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, চারটি ইউলুপ, খালের ওপর ১৩টি সেতু, চারটি পথচারী-সেতু ও পাঁচটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা দূর হবে, তেমনি সৌন্দর্যের ক্ষেত্রেও তা যোগ করবে আলাদা মাত্রা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। খরচ হচ্ছে ৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯০ একর ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। একটি পাম্প হাউস ও ১২টি ওয়াটার বাসস্টপ ছাড়াও ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ার লাইন নির্মাণ করা হবে বলে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এর সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দুপাশেই ৬ মিটার সার্ভিস সড়ক থাকবে।

প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের ৪০ ভাগ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এবারের বর্ষা মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে কাজে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। আশা করা হচ্ছে ২০১৮ সালের মধ্যেই খাল খনন ও খালের দুই পাড় বাঁধায়ের কাজ শেষ হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৪
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পড়ুন