বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা
সরকার ও প্রশাসনের কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি
২১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
বিশেষ প্রতিনিধি

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড দিয়ে হামলার পর তত্কালীন সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি। গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২৩তম দিনের মতো যুক্তিতর্কে এ তথ্য উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত ওই হামলার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেননি।

যুক্তিতর্কে গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থাপিত সাক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা আমির হোসেন আমু, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং পুলিশের তত্কালীন ডিআইজি নওশের আলীর জবানবন্দি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ নম্বর সাক্ষী ও মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্্হার আখন্দের জবানবন্দি থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামী ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর এ মামলার কার্যক্রম টানা চলবে।

রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে সাক্ষী আমির হোসেন আমুর জবানবন্দি উল্লেখ করে জানায়, এ সাক্ষী ২১ আগস্ট হামলায় আক্রান্তদের একজন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতা শেষ করার পর-পর সাংবাদিকরা তার ছবি তুলতে অনুরোধ জানায়। ছবি তুলতে সম্মতি দিয়ে নেত্রী দাঁড়ান। ঠিক তখনি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এ সাক্ষী তখন অস্থায়ী মঞ্চে শুয়ে পড়েন। তখন তিনি দেখতে পান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তত্কালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফসহ নেতৃবৃন্দ নেত্রীকে মানবঢাল বেষ্টিত অবস্থায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। মুহূর্তেই সমাবেশ স্থলে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে এ সাক্ষীও দেশ-বিদেশ চিকিত্সা নেন। আমু তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ধারাবাহিকতারই অংশ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের জবানবন্দি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ যুিক্ততর্কে বলে, এ সাক্ষী সেদিনের ঘটনায় আহত হন। তিনি জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দূরত্ব মাত্র তিনশ গজের মতো, পুলিশ সদর দপ্তরের দূরত্ব সাতশ গজের মতো। তা সত্ত্বেও ঊর্ধ্বতন কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি। বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে দল দিয়ে যত্নের সাথে ২১ আগস্ট সমাবেশকে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করা হয়েছে। সাক্ষী নওশের আলীর জবানবন্দি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ যুিক্ততর্কে জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল কবিরকে তত্কালীন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএম আমিনের নির্দেশে পরিবর্তন করা হয়।

প্রধান কৌঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজা। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা, আবুল কালাম আজাদ, আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কাজী ইলিয়াসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামি পক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১১:৫৭
আসর৩:৪১
মাগরিব৫:২০
এশা৬:৩৭
সূর্যোদয় - ৬:৩৬সূর্যাস্ত - ০৫:১৫
পড়ুন