মসলিন পুনরুজ্জীবনে জরুরি সম্মিলিত কার্যক্রম
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
সেমিনারে

বক্তারা

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

মসলিন পুনরুজ্জীবনে গবেষণা ও পরিকল্পনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত কার্যক্রম জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, দেশের এই ঐতিহ্য ফিরে পেতে হলে আমাদের আন্তরিক ইচ্চ্ছা জরুরি। কারণ সেই বিশেষ তুলা উত্পাদনের মাটি এখনও আমাদের আছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মসলিন পুনরুজ্জীবন: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারের এসব কথা বলেন তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান  মুশতাক হাসান মুহ: ইফতিখার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. লুত্ফুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড-এর সম্মানিত সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৃক পিকচার লাইব্রেরি (বেঙ্গল মসলিন) লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট লোকশিল্প গবেষক শ্রী চন্দ্রশেখর সাহা, হস্তশিল্প গবেষক ও লেখক রুবী গজনবী এবং তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো: ফরিদ উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী।

মুশতাক হাসান মুহ: ইফতিখার বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কাজ হলেও সমন্বয় না থাকলে কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে । তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে মার্কেট দখলের চেষ্টা করতে হবে । তিনি জানান জামদানীর মতো মসলিনও এদেশের পণ্য যতসম্ভব দ্রুত পুনরুজ্জীবন করতে যথাসম্ভব সহায়তা শিল্প মন্ত্রণালয় প্রদান করবে ।

ড. লুত্ফুর রহমান বলেন, মসলিনের গবেষণার কাজটির জন্য দরকার দক্ষ লোক ও সমন্বয়ের । ৪০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্য এই মসলিন। সকলে একত্রে কাজ করলে ২ বছরের মধ্যে এই ঐতিহাসিক পণ্য পুনরুজ্জীবীত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন ।

 সাইফুল ইসলাম বলেন, মসলিন পুনরুজ্জীবনে গবেষণা করছে দৃক। ২০১৬ সালে এই মসলিনের ওপর এক প্রদর্শনী হয়। মসলিনের গল্প তুলে ধরা হয়। সে সময় বেশ সাড়া  ফেলে।  তিনি অগ্রগতির বর্তমান অবস্থার ব্যাপারে আলোকপাত করে বলেন, বাংলার মসলিনের চাহিদা ছিল বিশ্বব্যাপী। তিনি বলেন, এই শিল্পের তুলা গাছ সব স্থানে পাওয়া যায় না। এই গাছের চাষ করা হয় না প্রায় ১৮০ বছরের উপরে। তিনি বলেন, এই গাছ পুন: উত্পাদনের চেষ্টা চলছে এবং সাফল্য ৭০ ভাগ পর্যন্ত মিল পাওয়া যায়। এই চেষ্টার ফসল ৪০০ কাউন্টের শাড়ি উত্পাদন। পশ্চিমবঙ্গের মসলিন পুনরুজ্জীবনের জন্য বিশাল প্রচেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

চন্দ্রশেখর সাহা বলেন, মসলিন সুতার কাপড় হলেও অত্যন্ত পাতলা ও সূক্ষ্ম। তিনি আরো বলেন, মসলিন যে হারিয়ে গিয়েছিল এবং পুনরায় এর গল্প উদ্ধারের চেষ্টা করছে দৃক, তা প্রশংসার দাবিদার। সুতা তৈরি করা সম্ভব হলে কাপড় তৈরি অসম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

রুবী গজনবী বলেন, ব্রিটিশরা ফুটি কার্পাস গাছের বীজ পাওয়ার পরও এতদূর আগাতে পারেনি যতটা পেরেছে দৃক, কিন্তু এখন দরকার আরো সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন