ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও সামনের সারিতে থাকতে হবে
দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তারা
১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
ইত্তেফাক রিপোর্ট

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ সামনের সারিতে রয়েছে। ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও সামনের সারিতে থাকতে হবে। কিছু প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আমাদের নেই, তবে মোকাবিলার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকতে হবে। সেই প্রস্তুতি সরকার নিচ্ছে। জনগণও দুর্যোগ মোকাবিলায় সাহসের প্রমাণ দিয়েছে। এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন প্রয়োজন। এ জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘জানবে বিশ্ব জানবে দেশ, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে এবার দিবসটি উদযাপিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, এমন কোনো মাস নেই যে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় না। আগ্নেয়গিরি এবং তুষারপাত ছাড়া সব ধরনের দুর্যোগই আমাদের দেশে আছে। গত বছর আমরা পাঁচটি বড় বড় দুর্যোগ মোকাবিলা করেছি। প্রতিটি দুর্যোগই সরকার সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। একটি মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। তিনি বলেন, দুর্যোগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ কথা নয়। বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। কিন্তু অন্য কোনো দল এসব দুর্যোগ মোকাবিলায় আগে এগিয়ে আসেনি, উঁকি দিয়েও দেখেনি। এখন যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর দুর্যোগকে ভয় পায় না।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, বর্তমানে সরকার বন্যা আসার পূর্বেই প্রস্তুতি সভা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, বরাদ্দ প্রদান ও আগাম বার্তা দিয়ে থাকে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন পাঁচদিন পূর্বেই আগাম বার্তা প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বেই গভীর সমুদ্রের মানুষদের সতর্ক করার জন্য এসএমএস পাঠানো হচ্ছে, তাদের উদ্ধারের জন্য উপযোগী জাহাজ ক্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরে হাওর এলাকায় পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৮০ হাজার কৃষক ও জেলেকে আগামী এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২২৮ কোটি টাকা ও ১ লাখ ৩৬ হাজার টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মায়া চৌধুরী বলেন, তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গরিব মানুষদের রক্ষার জন্য ৩০ লাখ কম্বল ও ৯৮ হাজার প্যাকেট খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু হোসেন বাবলা, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মদ খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ,  বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন, সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) পরিচালক আহমেদুল হক।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন