সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
দেশের জন্য অবদান রাখতে পারা জীবনের বিরল সুযোগ
ইত্তেফাক রিপোর্ট১১ মার্চ, ২০১৮ ইং
দেশের জন্য অবদান রাখতে পারা জীবনের বিরল সুযোগ
শিক্ষা, সাহিত্য বা সংস্কৃতিসহ নানা ক্ষেত্রে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারাকে নিজের জীবনের বিরল সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি  যেসব সময় পার করে এসেছি, দেশের ইতিহাসে তা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মাঝে মাঝে ভূমিকা পালন করতে পারা আমার জন্য এক বিরল সৌভাগ্য। আনিসুজ্জামান বলেন, আমি নিজেকে মূলত শিক্ষক মনে করি।  শিক্ষকতায় যে আনন্দ পেয়েছি, মর্যাদা পেয়েছি, সেটা আমার জীবনকে পরিপূর্ণ করেছে। দেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি বাড়তি আয়ু পেয়েছি। প্রার্থনা করবেন, জীবনের এ বাড়তি সময়টা যেন আমি ঠিকমতো কাজে লাগাতে পারি।

প্রফেসর ইমেরিটাস আনিসুজ্জামানের ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে সংবর্ধনা জানালো দেশের পুস্তক প্রকাশনার দুটি সংগঠন। গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও ব্যবসায়ী সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮১তম জন্মদিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক। শুভেচ্ছা জানান পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মোঃ আরিফ হোসেন এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের স্ত্রী সিদ্দিকা জামান।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী। আর উত্তরীয় পরিয়ে দেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, অধ্যাপক শফি আহমদ, রাজনীতিক ও প্রাবন্ধিক মোনায়েম সরকার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ।

এর আগে নজরুল সংগীত ও রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন আঁখি হালদার, নজরুল সংগীত গেয়ে শোনান উর্বী সোম।

প্রিয় বন্ধু আনিসুজ্জামানের ভাষা আন্দোলন, সাহিত্য ক্ষেত্রে নানা অবদানের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আনিস সাহিত্যের বাতিঘর, এটা নিয়ে কোনো প্রশ্নই উঠে না। কিন্তু একইসঙ্গে সে বিবেকেরও বাতিঘর, আমার কাছে সেটাই বেশি উল্লেখযোগ্য, বেশি মূল্যবান মনে হয়। আনিস আমার স্নেহাস্পদ, আজ জন্মদিনে ভালোবাসা যত না জানাব, তার চেয়েও বেশি তাকে আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে চাই।

সেলিনা হোসেন বলেন, আনিসুজ্জামান স্যার বুঝতে শিখিয়েছেন জ্ঞানের দীক্ষা দিয়ে জীবনকে কিভাবে পরিচালিত করতে হয়। আমি তার ক্লাসের ছাত্রী শুধু নই; জীবন পরিবেশের যে শিক্ষা তা স্যারের কাছে থেকে পেয়েছি। এ শিক্ষাকে আমার জীবনের অমূল্য সম্পদ বলে মনে করি।

শামসুজ্জামান খান বলেন, তিনি জাতির শিক্ষকে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যেন তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে ঘোষণা করে এ দাবি জানান তিনি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ মার্চ, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৬
যোহর১২:০৯
আসর৪:২৭
মাগরিব৬:০৯
এশা৭:২১
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৬:০৪
পড়ুন