নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্নের ঘটনা তদন্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি
৭ দিনের মধ্যে দিতে হবে প্রতিবেদন
০৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির জরায়ু ও গর্ভের সন্তানের মাথা দ্বিখণ্ডিতের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান এবং জাতীয় অধ্যাপক ডা. শায়লা খাতুনকে নিয়ে গঠিত দুই সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন।

‘সিজারকালে ডাক্তার দুই খণ্ড করলেন নবজাতককে’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে হাইকোর্ট সাতজনকে তলবের আদেশ দেয়। তলব আদেশে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় হাইকোর্টে হাজির হন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. স্বপন কুমার অধিকারী, একই হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. করুণা রানী কর্মকার, ডা. নাসরিন আক্তার পপি, ডা. জানিবুল হক, ডা. দিলরুবা শারমিন ও ডা. আয়েশা আফরোজ।

চিকিত্সকদের পক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু আদালতে বলেন, ঘটনাটি তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রসূতির গর্ভের শিশুটি জীবিত ছিল কি-না এ ব্যাপারে দুই রকম বক্তব্য থাকলেও নথিপত্র অনুযায়ী ও বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে শিশুটি মৃত ও অপরিণত ছিল। ওই অবস্থায় চিকিত্সকরা সিজারিয়ান না করে স্বাভাবিক প্রসবের উদ্দেশ্যে যে পদ্ধতি অনুসরণ করেন তা যথার্থ মনে হয়। মৃত শিশুটির দেহ জরায়ু থেকে বের হওয়ার পরে মাথা আটকে যাওয়ায় তা বিচ্ছিন্ন করার যে পদ্ধতি অবলম্বন করেন তা কোনোক্রমেই নবজাতকের মাথা বিচ্ছিন্ন করা নয়। বরং মৃত হওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ মায়ের জীবন রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। ফলে গর্ভের শিশুর মাথা আটকে যাওয়ায় এবং প্রসূতির জীবন রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চিকিত্সকরা ওই পদক্ষেপ নেন।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি করেছেন ওই হাসপাতালের চিকিত্সকরাই। এ কারণে বাইরের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দিয়ে ঘটনার তদন্ত করার আদেশ দেওয়া হচ্ছে। এরপরই হাইকোর্ট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেয়। একইসঙ্গে আগামী ১১ এপ্রিল এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের দায়িত্বে থাকা ৫জন চিকিত্সককে ওইদিন আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে সিভিল সার্জন ও হাসাপাতালের পরিচালককে। এ সময় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী শেগুফতা তাবাসসুম ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১২:০২
আসর৪:৩০
মাগরিব৬:১৯
এশা৭:৩২
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৬:১৪
পড়ুন