তিন কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ উত্পাদনে ধীরগতি
ইত্তেফাক রিপোর্ট২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
তিন কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ উত্পাদনে ধীরগতি
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা

‘শুধু সূর্যের শক্তি ব্যবহার করেই জ্বালানির শতভাগ চাহিদা মেটানো যায়। বায়ু এবং জলবিদ্যুত্ তো রয়েছেই। কিন্তু এ জন্য উপযুক্ত উপায়ে প্রকল্পই গ্রহণ করা

হচ্ছে না’

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতির চিত্র হতাশাজনক। সৌর, বায়ু বা জল- কোনো ধরনের নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ উত্পাদনেই বড় সাফল্য নেই। এ জন্য জমির স্বল্পতা এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ। কিন্তু আসল সঙ্কট আমাদের শিক্ষায় ও আচরণে। তিন কারণে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ উত্পাদনের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এগুলো হলো- কারিগরি জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতার অভাব, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্নীতি।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। ‘অপ্রতিরোধ্য এক বিপ্লব চলমান! শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে সারা বিশ্ব’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি এবং ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ (বিপিআই)।

অনুষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সাজেদ কামাল মূল প্রবন্ধ পাঠকালে বলেন, জীবাশ্ম নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানিই আগামীর ভরসা। বিশ্বের সব দেশ এখন সেদিকেই এগোচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্রটি ততটা আশাব্যঞ্জক নয়। সবাই জ্বালানি সঙ্কটের কথা বলছে। অথচ জ্বালানি সঙ্কট বলে কিছু নেই। সঙ্কট হলো শিক্ষায় এবং রাজনীতিতে। প্রকৃতিতে আমাদের প্রয়োজনের অনেক বেশি জ্বালানি রয়েছে। শুধু সূর্যের শক্তি ব্যবহার করেই জ্বালানির শতভাগ চাহিদা মেটানো যায়। বায়ু এবং জলবিদ্যুত্ তো রয়েছেই। কিন্তু এ জন্য উপযুক্ত উপায়ে প্রকল্পই গ্রহণ করা হচ্ছে না।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বুঝতে সামগ্রিকভাবে আমাদের আরেকটু সময় লাগবে। বাস্তবায়নের জন্য জাতিগতভাবে এটি বোঝা কিছুটা কঠিন। ভালো দিকনির্দেশক পেলে এ কাজ দৌড়বে। তিনি বলেন, ফাঁকি দিয়ে অর্থ কামানোর চিন্তা সমাজে প্রবল। এরই প্রভাব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতেও রয়েছে। ফাঁকি দেওয়া বন্ধ হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ আমাদের উন্নয়নের পথও গতিশীল হবে।

সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারছি না বলে আমরা সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না। কেননা বিশৃঙ্খলাকে আশ্রয় করে একজন প্রভাবশালী অর্থ কামাচ্ছেন। দুর্নীতি বন্ধ করলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তাই তারা দুর্নীতি ও বিশৃঙ্খলা জিইয়ে রাখতে চায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও অনেকটা তা-ই ঘটছে। তিনি বলেন, এ জ্বালানি উত্পাদন ও রক্ষণাবেক্ষণে জটিলতা রয়েছে কিন্তু ততটা কঠিন নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সাফল্য আসবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কয়লার ব্যবহার যতটা সম্ভব কমাতে হবে। তবে সুন্দরবন এলাকায় কয়লা ব্যবহার করা যাবে না।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, দেশে প্রায় ৬০ লাখ সোলার হোম সিস্টেম বসানো হয়েছে। সংখ্যাগত হিসাবে এটি বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এগুলো থেকে মাত্র ২০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুত্ উত্পাদিত হচ্ছে। এটি আশাব্যঞ্জক নয়। গ্রিডভিত্তিক সৌর বিদ্যুত্ উত্পাদনে ১৯টি প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। এটি হতাশাজনক।

ওয়াটার কিপারস্ বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরিফ জামিল বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় সবগুলো প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা তাদের নেই। তাই অগ্রগতিও নেই। এই পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবায়নযোগ্য শক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইফুল হক, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল মতিন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন