আসছে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইট
বাংলাভাষায় প্রথম এ উদ্যোগ চালু হবে আগামী মার্চে
০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
রাবেয়া বেবী

প্রত্যেক নারীই জীবনের নানা পর্যায়ে কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হন। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে তেমন একটা কথা বলার পরিবেশ এখন পর্যন্ত হয়নি। শ্রেণি বিশেষ কেউ তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাউন্সিলর বা মনোবিজ্ঞানীর দারস্থ হতে পারেন। তবে সমাজের বিশাল সংখ্যক নারী থাকেন এই সেবার বাইরে। তাদের জন্য এটুআই এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় উইমেন ইনোভেশন ক্যাম্পের মাধ্যমে চালু হচ্ছে ‘নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ’ শীর্ষক সেবামূলক ওয়েবসাইট। বর্তমানে এই ওয়েবসাইটের নমুনা ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। উন্নয়নের কাজ চলছে। ২০১৯ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসে উদ্বোধন করা হবে এই সেবামূলক ওয়েবসাইট।

এসিড সন্ত্রাসের শিকার মনিরা রহমান দীর্ঘদিন কাজ করেছেন নারীদের নিয়ে। খুব কাছ থেকে দেখেছেন মানসিকভাবে এসিড সন্ত্রাসের শিকার একজন নারী দিনের পর দিন কিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে গুরুতর স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যান। সেখান থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তৃতভাবে কিছু করার আগ্রহ তার। গত বছর উইমেন ইনোভেশন ক্যাম্পে তিনি জানান এ সম্পর্কিত পরিকল্পনা। ২০১৭ সালের ৮ মার্চ নারী দিবসে তার এই পরিকল্পনা বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি পান ১৯ লাখ টাকা।

মনিরা জানান, যখন কোনো মেয়ে মা হয় তখন তার হরমনাল কিছু পরিবতর্েনর কারণে বিষণ্নতায় ভোগে। একে আমরা প্রসব পরবর্তী বিষণ্নতা বলি। এই বিষণ্নতার জন্য সে সঠিকভাবে সন্তানের লালন-পালন করতে পারে না, নিজের যত্ন নিতে পারে না। তার সমস্যা পরিবার ও স্বামী বুঝতে পারে না। ফলে তাকে কোনো প্রকার চিকিত্সাসেবা দেওয়া হয় না। সে দিনে দিনে গুরুতর সমস্যার দিকে যায় এবং জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। আমরা এ সকল নারীর করণীয় এবং কোথায় গেলে সেবা মিলবে সে সম্পর্কে জানিয়ে দেব। আবার নারীর মনোপোজের সময় যে সমস্যা দেখা দেয় সে সমস্যা এবং বয়স্ক নারীর ডিমেনসিয়া এবং আলঝেইমার রোগের সেবা এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

কিভাবে এই সেবা গ্রহণ করা যাবে এবং সকল শ্রেণির মানুষের কি এই সেবায় প্রবেশগম্যতা আছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে মনিরা জানান, এখানে একটি হটলাইন থাকবে। কাউন্সিলিং করা হবে।

মনিরা বলেন, আমাদের দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে মানুষ ‘পাগলামী’ বলে। কিন্তু তা অবশ্যই পাগলামী নয়। একটা রোগ এবং কাউন্সিলিং ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিত্সার মাধ্যমে আরোগ্য হয় এবং সেবা নিতে উদ্বুদ্ধ করার জায়গাটা তৈরি করতে চাই। আমাদের এই ওয়েবসাইট যুক্ত করা হবে সরকারের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কিত সকল তথ্য। মনিরা আরও জানান ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ হবে। আমরা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়েবসাইটটি পাইলটিং আকারে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কিছু এলাকায় চালু করে এর প্রভাব দেখতে চাই। পরে ৮ মার্চ সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে এই ওয়েবসাইট। যে কেউ মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া স্থানীয় উঠান বৈঠক ও সমাবেশে এর প্রচার করা হবে। এ বিষয়ে এটুআই প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (ইনোভেশন) শাকিলা রহমান বলেন, এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নারী প্রশ্নোত্তর আকারে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা জানতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন