ভারী বর্ষণে সুন্দরগঞ্জ ও নাগেশ্বরীর চরাঞ্চল প্লাবিত
তলিয়ে গেছে ফসলি জমি হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ
ভারী বর্ষণে সুন্দরগঞ্জ ও নাগেশ্বরীর চরাঞ্চল প্লাবিত
উপজেলায় গত ৬ দিন ধরে অবিরাম ভারী বর্ষণে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়াসহ কয়েকটি স্থানে তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ।

গত মঙ্গলবার থেকে একটানা ভারী বর্ষণে তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, কাপাসিয়া, চন্ডিপুরসহ ১৫ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে ৬ ইউনিয়নের ৩০টি চরসহ কাইম এলাকার প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমির তোষাপাট ৩শ’ হেক্টর জমির বীজতলাসহ সবজি ক্ষেত। এছাড়া অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। অব্যাহত নদী ভাঙনে তারাপুর, কঞ্চিবাড়ি, চন্ডিপুর, হরিপুর, বেলকা ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের খোর্দ্দা, কাশিম বাজার, ছয়ঘড়িয়া, বোচাগাড়ি, লাল চামার, পূর্ব লাল চামার, হরিপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে লখিয়ার পাড়া, কাজিয়ার চর, ভাটি বুড়াইল, উজান বুড়াইল, বাদামের চর, কাপাসিয়া, গেন্দুরাম এলাকায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে ২ শতাধিক ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন জাতের সবজি ক্ষেত, তোষাপাট ক্ষেত নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। রামডাকুয়ায় তিস্তা শাখা নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়ায় উপজেলা ও জেলা শহরের সাথে ২০ গ্রামের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে তারাপুর, কাশিম বাজার, ছয়ঘড়িয়া ও বোচাগাড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ওই অঞ্চলের অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিভিন্ন স্থাপনাসহ আবাদী জমি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল হাই মিলটন তোড়ে ভেসে যাওয়া ব্রিজসহ ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দুধকুমর, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, ফুলকুমর, শংকোসের পানি বৃদ্ধি পেয়ে দু’কুল ছাপিয়ে লোকালয়ে ঢুকেছে। দেখা দিয়েছে আগাম বন্যা। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। তলিয়ে গেছে সদ্য লাগানো বীজ তলা।

ইতোমধ্যে আগাম বন্যায় কচাকাটার ধনিরামপুর, শৈলমারী, হিজরার বালার চর, জালির চর, তরিরহাট নতুন বাজার বদুর দোলা, কেদারের টাপুর গ্রাম, সাতানা, পুটিমারী বিষ্ণুপুর, বল্লভের খাসের টাপুরচর, ফান্দিরচর, নামারচর, শিকদার পাড়া, বলরামপুর, কালীগঞ্জের ফান্দির ভিটা, সাহেবগঞ্জ, ধনীরপাড়, নারায়ণপুরের বালার হাট, চরঝাউকুটি, বারোবিশ, অষ্টআশীর চর, মাঝিয়ালী, চৌদ্দঘুরি, নুনখাওয়ার বোয়ালমারী, চরপাটতলা, চরকাপনা, মাঝেরচর, বেরুবাড়ীর নয়ারচর, শালমারা, খেলারভিটা, চর রহমানেরকুটি, বামনডাঙ্গার চরলুছনি, পাঁচমাথা, মিনাবাজার, পানাতিটারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। কৃষি অফিস জানায়, সদ্য লাগানো ৪ হেক্টর বীজতলা, ১৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত ও ৬০ হেক্টর জমির পাট ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

তিস্তার চরে ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নদীতে পানি বেড়ে রাজারহাটে তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

রাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শনিবার রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। এতে তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো তলিয়ে গেলে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন দলদলিয়া, নাজিমখান ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে চরাঞ্চলগুলোর প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। চর তৈয়বখাঁ, চর খিতাবখাঁ, শিয়াল খাওয়ার চর, রতিদেব, মহাদেব, বুড়িরহাট চর, আদর্শ গ্রাম এলাকায় চরের বাড়িঘরের চারপাশে শুধু পানি আর পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন