৪৯ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে কোল্লাপাথর স্মৃতি সৌধ
রণাঙ্গনে শাহাদাত্ বরণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ সংগ্রহ করে সমাহিত করতেন আবদুল মান্নান  ৪৯ বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিসৌধ  সমাধিস্থলকে ঘিরে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা
৪৯ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে কোল্লাপাথর স্মৃতি সৌধ
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল স্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া। যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সমগ্র জেলার ইমারত, সেতু ও রেল লাইন। জেলার কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী বায়েক ইউনিয়নের কোল্লাপাথরে ৪৯ জন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘স্মৃতিসৌধ’ নির্মিত হয়েছে।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে সর্বপ্রথম এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৩নং সেক্টরের গেরিলা উপদেষ্টা লুত্ফুল হাই সাচ্চু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মহকুমা প্রশাসক এস.এম. রেজা। মহকুমা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রত্যেক কবরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের ফলক ও চিহ্ন লিখে দেয়া হয় এবং কবরস্থানটির সার্বিক সংস্কার সাধন করা হয়। ১৯৮০ সালের দিকে তত্কালীন মহকুমা প্রশাসক রেজা-ই-রশীদ যৌথ উদ্যোগে সেখানে একটি কাঠের রেস্ট হাউজ তৈরি করেন। কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী রেল স্টেশন সালদানদী। স্টেশন থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে টিলার উপর একটি তোরণের গায়ে লেখা ‘শহীদ সরণি’। এখানে রয়েছে রণাঙ্গনে শহীদ ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধার সমাধি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কোল্লাপাথর ২নং সেক্টরের মন্দবাগ সাব-সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্ণেল এমএ গাফফার। তাঁর অধীনে যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণোত্সর্গ করা ৪৯ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কোল্ল­­াপাথরের একটি ছোট্ট টিলায় সমাহিত করা হয়েছে। অপর ১২ মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয়েছে লক্ষ্মীপুরে। সীমান্ত এলাকায় রণাঙ্গনে শাহাদাত্ বরণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ সংগ্রহ করে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে আবদুল করিমের পিতা আবদুল মান্নান তার নিজস্ব মালিকাধীন টিলায় সমাহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি স্মৃতিসৌধের জন্য ৬৫ শতাংশ জমি দান করেন। এখানেই নির্মিত হয় স্মৃতিসৌধ।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ৯ মাসের যুদ্ধে জীবন উত্সর্গকারী যাদেরকে কোল্ল­াপাথরে শহীদ স্মৃতি সৌধে সমাহিত করা হয়েছে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন—সিপাহী দর্শন আলী, জাকির হোসেন, আবদুল জব্বার, হাবিলদার তৈয়ব আলী, নায়েক আবদুস সাত্তার, সিপাহী আব্বাস আলী, ফারুক আহাম্মদ, ফখরুল আলম, মোজাহিদ নূরু মিয়া, নায়েক মোজাম্মেল হক, নায়েক সুবেদার আবদুস ছালাম, নোয়াব আলী, সিপাহী মোসলেম মৃধা, প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, আবদুল অদুদ, সিপাহী আজিম উদ্দিন, মতিউর রহমান, মোশারফ হোসেন, নায়েক সুবেদার মাইনুল ইসলাম, সিপাহী নুরুল হক, আবদুল কাইয়ুম, সিপাহী হুমায়ুন কবির, ল্যান্স নায়েক আবদুল খালেক, ল্যান্স নায়েক আজিজুর রহমান, তারু মিয়া, নায়েক সুবেদার বেলায়েত হোসেন, রফিকুল ইসলাম, মোর্শেদ মিয়া, আশুতোষ রঞ্জন দে, তাজুল ইসলাম, শওকত, আবদুস ছালাম, জাহাঙ্গীর, আমির হোসেন, পরেশ চন্দ্র মলি­­ক, জামাল উদ্দিন, আবদুল আওয়াল, আবেদ আহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া, মতিউর রহমান, শাকিল মিয়া, আবদুর রশিদ, আনসার এলাহী বক্স, সিপাহী শহীদুল হক, সিপাহী আনোয়ার হোসেন, আবদুল বারী ও অজ্ঞাতনামা আরো দুই মুক্তিযোদ্ধা।

কোল্লাপাথরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থলে সরকারি বা রাজনৈতিক দলের কোন কর্মসূচি না থাকলেও স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেন না। মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে শহীদদের আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটে এখানে। শহীদদের স্মৃতিকে স্মরণীয় করতে এখানে নির্মিত হয়েছে একটি স্মৃতিসৌধ ও একটি মসজিদ। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে রেস্টহাউজ, বাঁধানো পুকুর ঘাট, নিরাপত্তা দেয়াল। সমাধিস্থলকে ঘিরে দিন দিন বাড়ছে দর্শনার্থীদের আগমন। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে কোল্লাপাথর স্মৃতিসৌধ এলাকাকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে।

আগামীকাল পড়ুন ঠাকুরগাঁও জেলার

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদন

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন