সখীপুরে মান্দাই নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে না
সখীপুর উপজেলাটি লাল মাটি আর সবুজ বনানীতে ঘেরা। এখানে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে বিভিন্ন অঞ্চলে ‘মান্দাই’ নামক স্বতন্দ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতি বাস করে। ঐতিহ্যগত দিক থেকে এরা সমৃদ্ধ সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী। এদের রয়েছে নিজস্ব কৃষ্টি-কালচার। রয়েছে নিজস্ব ভাষা, কৃত্য ও  ধর্মাচরণ।

দৈহিক গঠনগত দিকে থেকেও এরা বাংলাদেশে বসবাসরত অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক। পূজার্চনাসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান এরা পালন করে নিজস্ব রীতিতে। বাংলাদেশে জাতিগত বৈচিত্র্য রক্ষায় এরা মূল্যবান অবদান রাখছে। কিন্তু কালের চক্রে সমৃদ্ধ এই নৃ-গোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন প্রায়। আজ তারা স্থানীয় প্রভাবশালী নাগরিকদের হাতে নিগৃহীত, নিষ্পেষিত। তাদের জমি ভিটেমাটি জোর করে দখল করা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে দেশ ছাড়ছেন অনেকেই। যারা আছেন নিতান্তই মাটির টানে। ভাত জোটে না তাদের। যে জমি তাদের অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করতো সেই জমিতেই এখন তারা দিনমজুরি খাটেন। তারপরও প্রতিনিয়তই নানা হুমকি ধামকির মধ্যে তাদেরকে বসবাস করতে হয়। তারা মনে করছেন, এদেশে বসবাসকারী অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় সংখ্যায় তারা কম তাই তাদের আইনগত অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কচুয়া, কালিদাস, নলুয়া, বড়চওনা, ধোপারচালা, নয়াপাড়া, আন্দি, ঠকাইনা, ফুলঝুরি, বড়চালা, আমতৈল, বাজাইল, বাইটক্যা, দেউবাড়ী, দেবলচালা, দেওদীঘি, মহানন্দপুর, দাড়িপাকা প্রভৃতি অঞ্চলে মান্দাই নামক নৃ-গোষ্ঠী বাস করে। বাংলাদেশে বসবাসরত মান্দাই নৃ-গোষ্ঠীর জনসংখ্যা সম্পর্কে সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। মান্দাই নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন তাদের নামের শেষে ‘কোচ’ উপাধি ব্যবহার করে। সেজন্য ধারণা করা যায় যে, এরা কোচ নৃ-গোষ্ঠীরই একটি অংশ।

বাঙালি পুরুষ ও রমণীর মতোই এরা বর্তমানে আটপৌরে পোশাক পড়ে। পুরুষরা শার্ট, গেঞ্জি, লুঙ্গি, ধুতি, প্যান্ট এবং মেয়েরা সাধারণত শাড়ি, ব্লাউজ পড়ে। কৃষি প্রধান সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্রীড়ানুষ্ঠানের ব্যাপকতার মাঝেই এদের শিল্প চিন্তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। পুরুষের পাশাপশি মান্দাই নারীরাও মাঠে কাজ করে। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নেই। বাল্য বিবাহের করাল গ্রাস থেকেও এরা মুক্ত নয়। তার ওপর বিয়েতে রয়েছে যৌতুক প্রথা। এদের মধ্যে বিধবার পুনবিবাহ রীতি নেই। নানা রীতি এবং কুসংস্কারের যাঁতাকলে পিষ্ট এরা। এ নৃ-গোষ্ঠীর ধর্মচিন্তা সংবলিত কোনো ধর্মগ্রন্থ নেই। তাদের ব্যবহূত ‘ঠার’ ভাষার কোনো লিখিত বর্ণমালা না থাকায় তাদের ধর্মাচারের শাস্ত্রীয় বা পৌরাণিক দিকগুলোর সংরক্ষণ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ফলে তাদের ধর্মচিন্তা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া কষ্টসাধ্য। এরা সারাবছর ধরেই বিভিন্ন পূজাপার্বন পালন করে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ জুলাই, ২০২১ ইং
ফজর৪:০২
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৭
এশা৮:০৮
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:৪২
পড়ুন