লেখাপড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা
গাংনী (মেহেরপুর) সংবাদদাতা০১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
লেখাপড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা
শিশু মিথিলা ও লিমি খাতুন বেবি ডল নিয়েই এসেছে স্কুলে। পুতুলকে বউ সাজাতে ব্যস্ত তারা। কাক, পানি, বালি আর দাড়িপাল্লা নিয়ে পরিমাপ করছে রবিউস সামী, তুহিন, তামিম আল সামী ও সাবরিনা খাতুন। এছাড়া অন্য শিশুরা খেলছে আপনগতিতে। এভাবেই খেলাধুলা আর বিনোদনের মধ্যেই শিশুরা শিখছে অক্ষরজ্ঞান ও গণনার হাতেখড়ি।

তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মানসিক এবং সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী তাদের যত্ন, বেড়ে ওঠা এবং শিশু অধিকার নিশ্চিত করা, খেলা আনন্দ অক্ষর জ্ঞান এবং গণনার হাতেখড়ির মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন এবং শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সময় তাদের।

সেভ দ্য চিলড্রেন এর সহায়তায় স্থানীয় সংস্থা পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি মেহেরপুর জেলার তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এসব কেন্দ্রে চার হাজার ৩৬৯ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। গাংনী উপজেলায় ১১১টি, সদর উপজেলায় ৬০টি ও মুজিবনগর উপজেলায় ৩০টি কেন্দ্র রয়েছে।

পলাশীপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির শিক্ষা প্রকল্পের পরিচালক সুনিল কুমার রাই জানান, আনন্দময়, শিশুবান্ধব পরিবেশে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার বয়সী শিশুদের বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক, আবেগিক, সামাজিক নান্দনিক বুদ্ধিবৃত্তীয় ও ভাষাবৃত্তীয় তথ্য সার্বিক বিকাশে সহায়তা দিয়ে আজীবন শিক্ষণের ভীত রচনা করা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনে তাদের সানন্দ ও স্বতস্ফূর্ত অভিষেক ঘটানো।

গাংনী উপজেলার শিশিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষিকা সেলিনা খাতুন, পশ্চিম মালশাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিলা খাতুন ও শালদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রিক্তা খাতুন জানান, শিশুরা সকালে তাদের মায়ের হাত ধরেই সাধারণত শিক্ষা কেন্দ্রে আসে। এখানে বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের মেধা বিকাশ ও কল্পনাশক্তির বিকাশের জন্য এখানে পাঁচটি শিক্ষা কর্নারের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। পানি, বালু, দাড়িপাল্লা ও কাক নিয়ে শিশুরা খেলে। এতে করে তারা ভারি ও হালকা এবং ছোট ও বড় সমন্ধে ধারণা তৈরি করে। এখানে বর্ণ চাটের মাধ্যমে শিশুরা বাংলা ও ইংরেজি বর্ণের ধারণা পায়। এছাড়া কাঠের ব্লকের মাধ্যমে বর্ণ এবং রং সমন্ধে ধারণা পায়। তারা আরো জানান, এখানে শিশুরা নাচ, গান, কবিতা ও অভিনয়ের মাধ্যমে তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশ ঘটায়।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন