১১২ বছরের বাতিঘর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
১১২ বছরের বাতিঘর ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়
কথায় বলে, ‘ধ্যানের চর্চা হয় গুহায়, ধর্মের চর্চা হয় মসজিদ-মন্দিরে, নীতির চর্চা হয় পরিবারে, বিদ্যার চর্চা হয় বিদ্যালয়ে’। বিদ্যা চর্চার এমনি একটি শতবর্ষী বিদ্যাপিঠ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। ১১২ বছর ধরে জ্ঞানের বাতিঘর হয়ে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। গত ১০ বছর যাবত্ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস ও দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে সেরা স্থান দখল করে আছে। বিদ্যালয়টি এ বছর জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে এবং শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ৫০।

১৮৭৫ সালে সেনুয়া-টাঙ্গন নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত জমিদার বাড়ির পাশে এম.ই. (মিডল ইংলিশ) স্কুলরূপে প্রতিষ্ঠার পর ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে ১ মার্চ বিদ্যালয়টি এইচ.ই. (হায়ার ইংলিশ) স্কুলে রূপান্তরিত হয়। স্থান সংকুলান না হওয়ায় স্কুলটি স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে বর্তমানের কুসুম গ্রাম জমিদারির তত্কালীন জমিদার বিবি তৈয়বা খাতুন ১০ বিঘা সাড়ে ১৫ কাঠা জমি দান করেন। ওই জমির ওপর ১৯০৬-১৯০৮ সালের মধ্যে স্কুলের সুদৃশ্য ভবন নির্মিত হয় এবং ১৯০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে স্কুলটি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।

স্কুলটির মঞ্জুরির জন্য ১৯০৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হলেও ১৯১০ সালের শেষ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি লাভ করে।

১৯০৬ সাল থেকে রাজশাহী বিভাগের তদানীন্তন কমিশনার Mr. Marindine-এর নামানুসারে স্কুলটির নামকরণ হয় Marindine H.E.School। পরবর্তীকালে স্কুলটি ‘ঠাকুরগাঁও হাই স্কুল’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৬৭ সালের ১ আগস্ট স্কুলটি প্রাদেশিকীকৃত (সরকারি) হলে এটি ‘ঠাকুরগাঁও গভঃ হাই স্কুল’ অর্থাত্ ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে অভিহিত হয়। বর্তমানে ‘ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে পরিচিত।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী শিশির ভট্টাচার্য বলেন, এই স্কুলে পড়ালেখা করে আজ আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। আমাদের স্কুলের ছাত্ররা অনেকে ভালো জায়গায় চাকরি করছে। এখনো আমরা গর্বের সঙ্গে বলি আমরা ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। আশারাখি এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে।

বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাজিদ আল রেজা জানায়, জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠে পড়তে পেরে আমি গর্বিত। আমি চাই ভালো ফলাফল করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এ.কে কাফী জানায়, কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তুমি কোন স্কুলের ছাত্র। তখন সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র বললে নিজের মধ্যে খুবই তৃপ্তি পাই।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাদিমুল ইসলাম জাদু জানান, এই বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী একদিন দেশ গড়ার কাজে নেতৃত্ব দিবে বলে মনে করি। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান সাবু জানান, আমি এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এখন এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এটার উপর আর গর্বের কিছু হতে পারে না। এই বিদ্যালয়টি মানুষ গড়ার কারখানায় পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, এ বছর জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে বিদ্যালয়টি। আশারাখি, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন