মানবেতর জীবন-যাপন করছেন যাত্রা শিল্পীরা
মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা০১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
মানবেতর জীবন-যাপন করছেন যাত্রা শিল্পীরা
সরকারি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় যাত্রা প্রদর্শনের অনুমতি দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা প্রদর্শন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পী ও কলাকুশলীরা। শুধুমাত্র মহাদেবপুর উপজেলায়ই চার শতাধিক পেশাদার যাত্রা শিল্পী ও কলাকুশলী রয়েছে। যাত্রা চললে এদের পেটে ভাত জোটে, যাত্রা না চললে অর্ধাহার-অনাহারে থাকতে হয়।

উপজেলার প্রবীণ যাত্রাশিল্পী লুত্ফর রহমান বাচ্চু জানান, ১৩ বছর বয়স থেকে তিনি যাত্রা অভিনয় করছেন। আগে গ্রামবাংলার বিভিন্ন পূজা পার্বণে মেলা বসতো এবং মেলায় বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে থাকতো যাত্রাপালা। তখন যাত্রাপালায় অভিনয় করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই দিন কাটতো। বর্তমানে জঙ্গি হামলা ও অশ্লীলতার অভিযোগ এনে যাত্রা প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এতে পুরো বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি। স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাকে।

যাত্রা শিল্পী লাইলী আক্তার জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি যাত্রা শিল্পের সঙ্গে জড়িত তার দুই মেয়েও পেশা হিসেবে যাত্রাকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু প্রদর্শনী না থাকায় তারাও এখন বেকার। মহাদেবপুর বুলবুল সিনেমা হলের পাশে সোনার বাংলা যাত্রা ইউনিটের মালিক জরিনা পারভীন জানান, দল গুছিয়ে দুই বছর ধরে বসে আছেন, বায়না নেই। দলের ডাক না পড়ায় ৪০ জন সদস্যের এ দল নিয়ে তিনি মহা বিপদে আছেন। সহজ শর্তে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রাপালা প্রদর্শনের জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান।

মানবধিকার কর্মী ওবায়দুল হক বাচ্চু বলেন, যাত্রা শিল্পীদের জীবন-যাপনের জন্য মানবিক কারণে যাত্রা প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া প্রয়োজন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন