বিভিন্ন স্থানে হানাদারমুক্ত দিবস আজ
ইত্তেফাক ডেস্ক০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং
বিভিন্ন স্থানে হানাদারমুক্ত দিবস আজ
আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এইদিনে পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত হয় দেশের বিভিন্ন স্থান। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা এদিন বিজয় পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করে শত্রুমুক্ত অঞ্চলগুলোতে। ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

কুমিল্লা :আজ কুমিল্লা মুক্ত দিবস। এদিন বিকালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তত্কালীন পূর্বাঞ্চলের প্রশাসনিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী দলীয় পতাকা ও কুমিল্লার প্রথম প্রশাসক অ্যাডভোকেট আহমদ আলী স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ৭ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী কুমিল্লা বিমানবন্দরে পাকিস্তানি বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের প্রধান ঘাঁটিতে আক্রমণ শুরু করে। রাতভর পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে ২৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। একপর্যায়ে বিমানবন্দরের প্রধান ঘাঁটি দখলে নেয় মুক্তিসেনারা।

পটুয়াখালী: বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে অবস্থা বেগতিক বুঝে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ৭ ডিসেম্বর রাতে পটুয়াখালী শহরে কারফিউ জারি করে লঞ্চযোগে পলায়ন করে পাকিস্তানি সেনারা। পরদিন মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে পটুয়াখালীর নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে।

চাঁদপুর :৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদারবাহিনী টিকতে না পেরে গভীর রাতে সকলে একযোগে দুটি লঞ্চে করে নৌপথে পালিয়ে যেতে থাকে। পরদিন সকালে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা ট্যাংক নিয়ে চাঁদপুরে প্রবেশ করে হানাদারবাহিনীর লঞ্চ ডুবিয়ে দেয়। চাঁদপুর শত্রুমুক্ত হয়।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) :১৯৭১ সালের আজকের দিনে মিরসরাই উপজেলা পাক-হানাদারমুক্ত হয়। মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আবুল হাশিম জানান, মিরসরাই হানাদার দিবস উপলক্ষে সকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে র্যালি বের করা হবে। র্যালি শেষে মিরসরাই হানাদারমুক্ত দিবস নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।

মৌলভীবাজার : মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে হানাদারবাহিনী ৭ ডিসেম্বর রাতেই মৌলভীবাজার ত্যাগ করে সিলেটের পথে পাড়ি জমায়। মৌলভীবাজার ক্লাবের পাশে অবস্থিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক পাকিস্তানি সেনা মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর মৌলভীবাজার শহর হানাদারমুক্ত হয়।

ঝালকাঠি : ১৯৭১ সালের আজকের দিনে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। দলে দলে মানুষ রাস্তায় নেমে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।

কালকিনি (মাদারীপুর) : ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় কালকিনি অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুমুক্ত করেন।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) :মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ৭ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে কুষ্টিয়ার শহরতলী জগতি ও বটতৈল এলাকায় আশ্রয় নেয়। পরদিন মুক্তিযোদ্ধারা দৌলতপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের মাধ্যমে দৌলতপুরকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করে।

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ১৯৭১ সালের আজকের দিনে সরাইল থানা চত্বরে উত্তোলন করা হয় লাল-সবুজের পতাকা। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইমত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি শাহবাজপুর, টিঘর ধর্মতীর্থ ও কুচিনর পাঁচ শতাধিক শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় চারটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।   

মিরপুর (কুষ্টিয়া) :আজ কুষ্টিয়ার মিরপুর মুক্ত দিবস। ৮ ডিসেম্বর গ্রুপ কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান ১৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে মিরপুর থানায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গান স্যালুটের মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এরপর ৬৫ জন হানাদার বাহিনীর দোসর ও রাজাকার পাহাড়পুর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে মিরপুর মুক্ত হয়।

মেলান্দহ (জামালপুর) :৭১’র আজকের দিনে বিকেলে আলম কোম্পানির টু-আইসি (পরবর্তীতে সেঙ্গাপাড়া কোম্পানি) কমান্ডার আব্দুল করিম; উমির উদ্দিন পাইলট হাই স্কুল মাঠে প্রথম পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মেলান্দহকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করেন। এদিনে তত্কালীন মেলান্দহ থানার ওসি জোনাব আলী তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ৪৬ রাজাকার আত্মসমর্পণ করে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ নভেম্বর, ২০২০ ইং
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫১
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩৩
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পড়ুন